Friday, January 20, 2012

কালিজিরা

ভীষণ উপকারী জিনিস কালিজিরা। এটাকে খাবার না বলে পথ্য বলাই ভালো। কালোজিরার বৈজ্ঞানিক নামঃ Nigella Sativa Linn.- এটি মাঝারী জাতীয় মৌসুমী গাছ, একবার ফুল ও ফল হয় । তিন-কোনা আকৃতির কালো রং এর বীজ হয় । গোলাকার ফল হয় এবং প্রতিটি ফলে ২০-২৫ টি বীজ থাকে । আয়ুর্বেদীয় , ইউনানী, কবিরাজী ও লোকজ চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। মশলা হিসাবে ব্যাপক ব্যবহার হয়ে থাকে, এটি পাঁচ ফোড়নের একটি উপাদান।
হুজুর ...পাক(সাঃ)বলেছেন, “একমাত্র মৃত্যু ছাড়া সকল রোগের ঔষুধ এই কালিজিরা’ – আল হাদিস
কালিজিরার কিছু গুনাবলি :
প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে মানুষ খাবারের সঙ্গে ‘কালিজিরা’ গ্রহণ করে আসছে। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে জানতে পেরেছেন যে কালিজিরার সব গুণ লুকিয়ে আছে এর তেলে।
সাধারণত আমরা খাবারের সঙ্গে মসলা হিসেবে অথবা ভর্তা করে ভাতের সঙ্গে কালিজিরা খেয়ে থাকি। কিন্তু এভাবে আমাদের স্বাস্থ্য কালিজিরার আসল গুণাবলি থেকে বঞ্চিত হয়। তাই কালিজিরা নয়, বরং কালিজিরার তেল আমাদের শরীরের জন্য নানাভাবে উপকারী।
কালিজিরার তেলে ১০০টিরও বেশি উপযোগী উপাদান আছে। এতে আছে প্রায় ২১ শতাংশ আমিষ, ৩৮ শতাংশ শর্করা এবং ৩৫ শতাংশ ভেষজ তেল ও চর্বি। কালিজিরার অন্যতম উপাদানের মধ্যে আছে নাইজেলোন, থাইমোকিনোন ও স্থায়ী তেল। এতে আরও আছে আমিষ, শর্করা ও প্রয়োজনীয় ফ্যাটি এসিডসহ নানা উপাদান। পাশাপাশি কালিজিরার তেলে আছে লিনোলিক এসিড, অলিক এসিড, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন, জিংক, ম্যাগনেশিয়াম, সেলেনিয়াম, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি, ভিটামিন-বি২, নিয়াসিন ও ভিটামিন-সি।
শরীরের রোগ প্রতিরোধে কালিজিরার মতো এত সহজে এত কার্যকর আর কোনো প্রাকৃতিক উপাদান আছে বলে জানা যায়নি। কালিজিরার তেলের উপকার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, ইনসুলিন রোধ হ্রাস (এভাবে ডায়াবেটিস কমিয়ে রাখা), কাশি ও হাঁপানির উপশম, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি, হৃজ্জনিত সমস্যার আশঙ্কা হ্রাস, চুল পড়া হ্রাস, ত্বকের সুস্বাস্থ্য, মায়ের দুধের পরিমাণ বৃদ্ধি, আর্থÛাইটিস ও মাংসপেশির ব্যথা কমাতে কালিজিরার তেল উপযোগী। কালিজিরার তেল গর্ভাবস্থায় গ্রহণ করতে হয় না। জ্বর, কফ, গায়ের ব্যথা দূর করার জন্য কালিজিরা যথেষ্ট উপকারী বন্ধু। এতে রয়েছে ক্ষুধা বাড়ানোর উপাদান। পেটের যাবতীয় রোগ-জীবাণু ও গ্যাস দূর করে ক্ষুধা বাড়ায়। যাঁরা মোটা হতে চান, তাঁদের জন্য কালিজিরা যথাযোগ্য পথ্য। আবার যাঁদের শরীরে পানি জমে হাত-পা ফুলে যাওয়ার সমস্যা রয়েছে, তাঁদের পানি জমতে বাধা দেয়। কালিজিরা শরীরের জন্য খুব জরুরি। সন্তান প্রসবের পর কাঁচা কালিজিরা পিষে খেলে শিশু দুধ খেতে পাবে বেশি পরিমাণে। কালিজিরায় রয়েছে অ্যান্টিমাইক্রোরিয়াল এজেন্ট, অর্থাৎ শরীরের রোগ-জীবাণু ধ্বংসকারী উপাদান। এই উপাদানের জন্য শরীরে সহজে ঘা, ফোড়া, সংক্রামক রোগ (ছোঁয়াচে রোগ) হয় না। আমাদের মেধার বিকাশের জন্য কাজ করে দ্বিগুণ হারে। কালিজিরা নিজেই একটি অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিসেপটিক। দাঁতে ব্যথা হলে কুসুম গরম পানিতে কালিজিরা দিয়ে কুলি করলে ব্যথা কমে; জিহ্বা, তালু, দাঁতের মাড়ির জীবাণু মরে। খুব বেশি কালিজিরা খেলে হিতে বিপরীত হবে। আর যাঁরা কালিজিরা হজম করতে পারেন না, তাঁরা খাবেন না। কালিজিরা কৃমি দূর করার জন্য কাজ করে। তারুণ্য ধরে রাখে দীর্ঘকাল। আমাদের কাজ করার শক্তিকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয়।
0 comments

Friday, October 7, 2011

লেমন গ্রাস

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের মধ্যে অবস্থিত বোটানিক গার্ডেনে আছে লেমন গ্রাস। বাংলা নাম গন্ধতৃণ বা গন্ধবেণা, হিন্দি নাম গন্ধতৃণ, সংস্কৃত নাম ভূস্তৃণ, অতিগন্ধা ও সুগন্ধতৃণ এবং ইংরেজি নাম lemon grass or oil grass, পোয়েসি পরিবারভুক্ত এ উদ্ভিদটির বৈজ্ঞানিক নাম Cymbopogon citratus. এটি এক ধরনের তৃণ বা ঘাস জাতীয় উদ্ভিদ, উচ্চতা ৫/৭ ফুট, পাতা লম্বায় প্রায় ৩/৪ ফুট। এ ধরনের ঘাসে সাধারণত ফুল হয় না, তবে ফুল দেখা যেতেও পারে। ফুলের বোঁটা ছোট, পুষ্পদ- সরু ও একদিকে অবনত। ফুল উভলিঙ্গিক। বর্ষাকালে ফুল হয়। তেলের জন্য জাভা, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, মাদাগাস্কার, মরিশাস ও দক্ষিণ আমেরিকাতে এর চাষ করা হয়। পাতার রস বা ক্কাথ জ্বরঘ্ন, ঘর্মকারক, উদ্দীপক, মুখগহ্বর ও মাথার শৈ্লষ্মিক ঝিল্লীর প্রদাহের প্রতিষেধক এবং ম্যালেরিয়া রোগগ্রস্ত শোথরোগীর জন্য ফলপ্রদ। এ ছাড়া এটি কৃমিনাশক, ক্ষুধাবর্ধক, বিরেচক, শিশুদের কাসিতে লাভদায়ক, আন্ত্রিক রোগে ব্যবহার্য ও কামেচ্ছানাশক। ঘাসসিদ্ধ পানিতে দুধ ও চিনি মিশিয়ে চায়ের মতো পান করা যায়। জাভাতে ঘাসের রস দিয়ে মসলাদার সুস্বাদু শরবত তৈরি করা হয়। ইউনানি মতে এর রসে ৪০ দিন গন্ধকে ভিজিয়ে রেখে রোদে শুকিয়ে নিয়ে ওই গন্ধক ২৫০ মিলিগ্রাম মাত্রায় পানের সঙ্গে সেবন করলে ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়। গন্ধতৃণের তেল ঘর্মকর, উদ্দীপক, পেটফাঁপা ও আক্ষেপ নিবারক এবং আমাশয়ের মূল্যবান ওষুধ। এটি কলেরায় বমননিবারক, অবসাদনাশক ও বলকারক। পুরনো বাত, স্নায়ুশূল, মচকানো ব্যথা, আঘাতজনিত ব্যথায় তেল খাওয়ালে ও মালিশ করলে ভালো কাজ হয়।
যে কোনো জ্বরে নয়, পিত্তজ্বরে এটি ভালো কাজ করে। জ্বরের সঙ্গে শরীরে দাহ, পায়খানা হচ্ছে না, ক্ষুধা কম, পেটে অল্প-বিস্তর ব্যথাও আছে; অথচ এটি ম্যালেরিয়া বা টাইফয়েড জ্বর নয়। এক্ষেত্রে মূলসহ শুকনো ঘাস ২৫ গ্রাম নিয়ে ৫/৬ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে, ২ কাপ থাকতে নামিয়ে, ছেঁকে, সেটিকে আধকাপ মাত্রায় সারাদিনে ৪ বারে খেতে হবে। এর ফলে ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়ে যাবে এবং অন্যান্য উপসর্গগুলোও চলে যাবে। এভাবে ২-৩ দিন সেবন করা দরকার। অগি্নমান্দ্যে অর্থাৎ ক্ষুধা ভালো হচ্ছে না, দাস্তও পরিস্কার হয় না, মাঝেমধ্যে পেট ফাঁপে_ এক্ষেত্রে উপরোক্ত পদ্ধতিতে ক্কাথ তৈরি করে ১ সপ্তাহ খেলে ক্ষুধা বাড়তে আরম্ভ করবে। তারপর আরো কিছুদিন ওই মাত্রায় দিনে দুবার করে খেতে হবে। অর্থাৎ ১০-১২ গ্রাম মূলসহ শুকনো ঘাস ৩-৪ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে ১ কাপ থাকতে নামিয়ে, ছেঁকে, সেটা দুবারে খেতে হবে। ক্রিমির উপদ্রবে- ছোট ছোট ক্রিমি অথবা কেঁচো ক্রিমি যেটিরই উপদ্রব হোক না কেন, মূলসহ শুকনো ঘাসের (১০/১২ গ্রাম) ক্কাথ উপরোক্ত পদ্ধতিতে তৈরি করে সকালে ও বিকালে দুবারে কয়েকদিন সেবন করলে এর উপদ্রব থেকে রেহাই পাওয়া যায়। কামজ উন্মাদে _এটা ছেলেমেয়েদের যৌবনের রোগ। তবে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এর শিকার বেশি হয়। ছেলেদের হলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তখন যৌনাচারে কোনো বাদ-বিচার থাকে না। মেয়েদের হলে প্রাথমিক অবস্থায় চুপচাপ থাকে, যতক্ষণ সম্ভব নিজেকে সামলে রাখার প্রাণপণ চেষ্টা করে, তারপর সামলাতে না পারলে ছেলেদের মতো কেউ কেউ নির্লজ্জ হয়ে পড়ে, তখন কিন্তু যৌনাচারে কোনো বাদ-বিচার করা সম্ভব হয় না, আর যারা সে পথে না যায়, তারা মানসিক বিপর্যয়ের কবলে পড়ে। তবে যে পথেই তারা যাক না কেন, রোগের শান্তি হয় না, অর্থাৎ কোনো কিছুতেই যৌনসুখের অাঁশ মেটে না। এক্ষেত্রে মূলসহ শুষ্ক ঘাস ২৫ গ্রাম ৫/৬ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে ২ কাপ থাকতে নামিয়ে, ছেঁকে, সেটাকে দিনে ৩/৪ বারে সেবন করাতে হবে। তবে সেইসঙ্গে দুধ ও চিনি মিশিয়ে শরবতের মতো করে খাওয়ালে আরো ভালো হয়। দেহের কোথাও যদি মচকে গিয়ে কিংবা আঘাতজনিত কারণে ব্যথা হয় এবং ফুলে যায় অথচ কোনো হাড়গোড় ভেঙে যায়নি এবং রক্তপাতও ঘটেনি, এক্ষেত্রে লেমনগ্রাস অয়েল ১০ ফোঁটা করে দিনে ২/৩ বার খেতে হবে এবং ব্যথার স্থানে হালকাভাবে লাগিয়ে দিতে হবে। ২/৩ দিনে ব্যথা কমে যাবে।

লেখা ও ছবি : শেখর রায়
0 comments

Friday, September 2, 2011

কেয়া ফল

কেয়া ফল
0 comments

Friday, April 29, 2011

ঝুমকা

প্রবীণ বৃক্ষপ্রেমী জয়নাল আবেদিন একদিন ভরদুপুরে একটি অচেনা ফুল দেখাতে নিয়ে গেলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডে অবস্থিত ব্রিটিশ কাউন্সিলের উত্তর পাশের দেয়াল-লাগোয়া শিক্ষকদের আবাসিক ভবনের পেছনে গিয়ে দেখা মিলল ফুলগুলোর। ফুলগুলো এতটাই আড়ালে যে তাঁর অনুসন্ধানের প্রশংসা না করে উপায় নেই। চিনতে কষ্ট হলো না, এগুলো লাল ঝুমকা। বছর খানেক আগে মিরপুর উদ্ভিদ উদ্যানে দেখেছি। এই লতাও সেখান থেকে সংগৃহীত। তুলনামূলকভাবে দুর্লভ। আর কোথাও চোখে পড়েনি। তবে ঝুমকালতার আরও তিনটি প্রকরণ দেখেছি বিভিন্ন স্থানে। যে প্রকরণটি থেকে ট্যাং ফল হয়, সেটি দেখেছি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্মপ্লাজম সেন্টারে। সব প্রকরণের ফুল গড়নের দিক থেকে প্রায় একই রকম হলেও টক স্বাদের ফলওয়ালা প্রজাতিটি এ ক্ষেত্রে অনেকটাই ব্যতিক্রমী। ফলের রস থেকে শরবত বানানো যায় বলেই এমন নামকরণ। আর বেগুনি রঙের প্যাসিফ্লোরা সেরুলিয়া প্রকরণটির (ঝুমকালতা নামেই পরিচিত) ফুলগুলো প্রায় সারা দেশেই দেখা যায়, ফোটে বর্ষায়। নওয়াজেশ আহমদ ওয়াইল্ড ফ্লাওয়ার্স অব বাংলাদেশ গ্রন্থে জংলি ঝুমকা নামের আরেকটি ফুলের সন্ধান দিয়েছেন। এটি পার্বত্য চট্টগ্রামে সহজলভ্য। এরা একই প্রজাতির ফুল হলেও পাতার রকমফের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।
বসন্তের মাঝামাঝি সময় ঢাকায় মিরপুর উদ্ভিদ উদ্যান কার্যালয়ের পশ্চিম পাশে গেলে এই ফুল পাবেন। তত দিনে উদাল, মাধবী, রামডালুর মৌসুম শেষ; গ্লিরিসিডিয়াও রং হারিয়ে বিবর্ণপ্রায়। এই শূন্যতা ঘোচাতে সেখানে চারপাশ আলোকিত করে ফোটে লাল ঝুমকা ফুল (Passiflora coccinea)। একটি-দুটি নয়, অনেকগুলো। চারপাশে নিবিড় সবুজের ভেতর হঠাৎ লাল রঙের বর্ণিল উচ্ছ্বাস সত্যিই মনোহর। এই চটকদার রঙে আকৃষ্ট হয়ে আসে মৌমাছি, প্রজাপতি আর পাখিরা। পৃথিবীজুড়ে প্রায় ৫০ রকম ঝুমকালতার ফুল রয়েছে। সে তুলনায় আমাদের দেশেরগুলো হাতেগোনা। এখানে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় বেগুনি রঙের সুগন্ধি ফুলগুলো। পাহাড়ি প্রজাতিটি সমতলে খুব একটা দেখা যায় না। প্যাসিফ্লোরা বা প্যাশন ফ্লাওয়ার নামের এই ফুল এখন পৃথিবীর বিভিন্ন উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। ইংরেজি নাম স্কারলেট প্যাশন ফ্লাওয়ার এবং রেড প্যাশন ফ্লাওয়ার। আলোচ্য লাল ঝুমকা পাতার গড়নে অন্যান্য ঝুমকা থেকে অনেকটাই আলাদা।
বহুবর্ষজীবী লতানো গাছ, পাতা পুরু, লম্বা আয়তাকার, কিনারা অগভীরভাবে কাটা কাটা। ফুল ফোটার প্রধান মৌসুম চৈত্র থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত। গাঢ় লাল রঙের লম্বাটে পাপড়িগুলো ওপর-নিচে দুই স্তরে সুসজ্জিত থাকে। মাঝখানের একগুচ্ছ পরাগকেশর সাদা ও কালো রঙের। একসঙ্গে অসংখ্য ফুল ফোটে বলে অনেক দূর থেকেই আমাদের নজর কাড়ে। বর্ণবৈচিত্র্য তৈরির জন্য অন্যান্য বাগানেও প্রচুর পরিমাণে রোপণ করা প্রয়োজন। আদি আবাস আমাজনের ব্রাজিল, পেরু, বলিভিয়া অঞ্চল।

মোকারম হোসেন || প্রথম আলো
0 comments

আলকুশি

খাগড়াছড়ির অন্যতম দর্শনীয় স্থান আলুটিলা দেখে আমরা ওপরে উঠে এলাম। এখান থেকে গোটা শহরের চিত্র স্পষ্ট দেখা যায়। তারপর খাড়া সিঁড়ি বেয়ে উল্টোদিকের পাহাড়ে চড়লাম আলুটিলা নবগ্রহ আলোক ধাতুছৈত্য স্থাপনাটি দেখতে। নেমে এসে পথের ধারে বুনো ঝোপ-জঙ্গলের ভেতর দিয়ে খানিকটা পথ হেঁটে পাহাড়ি কাশফুলের একটি ঝোপের পাশে দাঁড়ালাম। এদিকটা বেশ খোলামেলা। কাশফুলের শক্ত ডাঁটা বেয়ে ওঠা একটি লতা দেখে কিছুটা কৌতূহল হলো। পাতা দেখে মনে হলো, কোনো বুনো শিমের লতা হবে হয়তো। কিন্তু মাটিতে গড়ান লতায় অদ্ভুত ফুলটি দেখে সে ইচ্ছা দমে গেল। কারণ, শিমফুল সাধারণত এমন হয় না। এমন ফুল আগে কখনো দেখিনি। ঝোপের ভেতর আরও কয়েক থোকা ফুল ঝুলে আছে। অনেকটা দেশি মাদারের ফুলের মতো কালচে বেগুনি রঙের। পাপড়ির আগা পাখির ঠোঁটের মতো। বাংলাদেশ ন্যাশনাল হার্বেরিয়ামের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সরদার নাসির উদ্দিন জানালেন এটা আলকুশি। সংস্কৃত নাম আত্মগুপ্তা। বৈজ্ঞানিক নাম Mucuna pruriens। ইংরেজি নাম ভেলভেট বিন। আমাদের বন-পাহাড়ে এখনো মোটামুটি সহজলভ্য। একসময় আমাদের লোকালয়ের ঝোপ-জঙ্গলে অঢেল ছিল, এখন নেই বললেই চলে।
আলকুশি ওষুধি গাছ হিসেবে প্রাচীনকাল থেকেই সবচেয়ে বেশি আদৃত। রাজনিঘন্টুতেও এ গাছের উল্লেখ আছে। ‘কপিকচ্ছুরাত্মগুপ্তা স্বয়ংগুপ্তা মহর্ষভী/লাঙ্গলী কুণ্ডলী চণ্ডা মর্কটী দুরভিগ্রহা।’
আলকুশি সাধারণত বর্ষজীবী লতা, কখনো কখনো বহুবর্ষজীবী হতে পারে। প্রতি এক বছরে ১৫ মিটারের মতো লম্বা হয়। লতা ও পাতা শিমগাছের মতো। পাতা ত্রিপত্রিক। পত্রিকা প্রায় সাড়ে ১২ মিলিমিটার লম্বা। কমবয়সী গাছ রোমশ। মঞ্জরিদণ্ড আড়াই থেকে পাঁচ মিলিমিটার লম্বা। ফুল ঈষৎ বেগুনি, কোনো কোনো প্রজাতি সাদা কিংবা গোলাপি রঙের। শুঁটি দুই থেকে তিন ইঞ্চি লম্বা, একটু বাঁকা। ফল লম্বাটে, মাথার দিকে বাঁকানো, রোমশ ও ধূসর রঙের। গায়ে লাগলে ফুলে ওঠে ও চুলকায়। এই কুখ্যাতির জন্য গ্রামের মানুষ খুব একটা কাছে ভিড়ত না। ছয়-সাতটি বীজ থাকে শুঁটিতে, ধূসর রং, কোনোটি কালো। শুঁটি দেখতে শাকআলুর শুঁটির মতো কিন্তু গোলাকার। বীজ চ্যাপ্টা ও ঈষৎ পীত রঙের, মুখ কালো। প্রতিটি বীজ ৫৫ থেকে ৮৫ গ্রাম ওজন হয়। সারাবছরই পর্যায়ক্রমে ফুল ও ফল পাওয়া যায়।
কালীপদ বিশ্বাস ভারতীয় বনৌষধি গ্রন্থে এ গাছের অসংখ্য কার্যকর ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেছেন। গাছের স্বাদুরস বায়ু ও ক্ষয়নাশক, রক্তদোষ ও ব্রণনাশক। বীজ ভেঙে মাষকলাইয়ের সঙ্গে জুস বানিয়ে খেলে শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তা ছাড়া গাছের বীজ, শাক ও মূল বাত, জ্বর এবং কৃমি প্রতিরোধে কার্যকর। বিছার কামড়ে বীজগুঁড়া লাগালে কাজ হয়। এ গাছ পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে উৎকৃষ্ট পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার্য। ফল একসময় কফির বিকল্প হিসেবে ব্যবহূত হতো।

মোকারম হোসেন || প্রথম আলো
0 comments

বেল

নিদারুণ গরমের কালে তৃষ্ণা নিবারণে বেলের শরবতের জুড়ি নেই। এ ছাড়া পেটের গোলমাল বা অজীর্ণের সমস্যায় পড়লেও বেলের খোঁজ পড়ে। সেবনেই দ্রুত নিরাময় নিশ্চিত। বাজারে এ সময় ফলটি সহজলভ্যও।
ফলটি আমাদের দেশের নিজস্ব হলেও এর কোনো ‘অনুমোদিত’ জাত নেই। সারা দেশেই জন্মে। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘দশসেরী’ জাতের বেলটিই দেশের বেলের মধ্যে সেরা। এ ছাড়া রাজশাহী, নাটোর, দিনাজপুর, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও জামালপুরে বেল ভালো হয়। যত্ন-আত্তির দরকার হয় না, বসতবাড়ির একধারে একটু ঠাঁই পেলেই মাথা তুলে দাঁড়ায় গাছটি।

অল্প বয়সে বেলগাছের গা জুড়ে তীক্ষ্ন মুখ ও লম্বা কাঁটা। সেটি নিরাপত্তার জন্যই। বয়স বাড়লে হয়তো এদেরও কাণ্ডজ্ঞান হয়, তাই কাণ্ডের কাঁটাগুলো আর থাকে না। অল্প সংখ্যায় থাকে শাখায়। আমাদের দেশের নিজস্ব ফলের মধ্যে পুষ্টিমান ও ঔষধিগুণে বেল অনন্য।

ভারতই বেলগাছের আদি জন্মস্থান। এখন থাইল্যান্ড, মিয়ানমার ও পাকিস্তানেও উন্নত জাতের বেল হচ্ছে। বেলগাছ লম্বায় ১০ থেকে ১৬ মিটার হয়। অত্যন্ত কষ্টসহিষ্ণু। সব ধরনের মাটিতেই জন্মে। হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে অত্যন্ত পবিত্র। সংস্কৃতে এর নাম ‘বিল্ব’। এই বিল্বপত্র ব্যতিরেকে পূজা-অর্চনা চলে না। অনেক ক্ষেত্রে ফল এবং কাঠও প্রয়োজন হয়। হয়তো সে কারণে রান্নার কাজে বেলগাছের লাকড়ি ব্যবহার করেন না হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। আকৃতিগত সাদৃশ্য দেখে ঔপনিবেশিক সাহেবদের কাছে ফলটিকে আপেলের মতোই মনে হয়েছিল। আর এর কঠিন বহিরাবরণকে প্রাধান্য দিয়েই তাঁরা শ্রীফলকে ডেকেছেন ‘Wood Apple’ নামে। আর বৈজ্ঞানিক নাম Aegle marmelos.
তবে এর শক্ত খোল ভেদ করে ভেতরের অমৃততুল্য শাঁসের হদিস সাহেবরা কতটুকু পেয়েছিলেন, বলা মুশকিল।
সাহেবরা যা-ই বলুন না কেন, বেল কিন্তু মোটেই শুষ্কংকাষ্ঠং গোছের ফল নয়। কাঁচায় রং সবুজ, পাকলে হলুদাভ। ভেতরে শাঁসও সোনালি-হলুদ, মোলায়েম। পাকা ফল মিষ্টি, সুরভিময়। শাঁসের ভেতরে আলাদা স্তরে অনেকগুলো বীজ জড়ানো থাকে আঠার সঙ্গে। তবে সহজেই তা আলাদা করা যায়। বেল প্রচুর পরিমাণ শর্করা, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, লৌহ, ক্যারোটিনসহ মূল্যবান খনিজে সমৃদ্ধ। কাঁচা ফলও উপকারী। তিব্বিয়া হাবিবিয়া কলেজের সহকারী অধ্যাপক হাকিম ফেরদৌস ওয়াহিদ জানিয়েছেন আমাশয়, কোষ্ঠকাঠিন্য প্রভৃতি আন্ত্রিক রোগ নিরাময়ে বেলশুঁটু কার্যকর। এ ছাড়া পাতার রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে পান করলে চোখের ছানি ও জ্বালাপোড়ার উপশম হয়। এই মিশ্রণের সঙ্গে গোলমরিচ গুঁড়ো সংযোগে শরবত পানে প্রাথমিক পর্যায়ের জন্ডিসও সারে। এ ছাড়া ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক বিভিন্ন ওষুধের উপকরণ হিসেবে বেল প্রচুর ব্যবহূত হয়।

বেলের বয়ান বিধৃত করতে গিয়ে যদি ন্যাড়ার কথা উল্লেখ না করা হয় তবে তা নির্ঘাত অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। ন্যাড়া ক’বার বেলতলায় যায়? যায় কি আদৌ? কেন এ কথার চল হয়েছিল তাই বা কে জানে! বাংলা বাগবিধিতে বেল নিয়ে আরও একটি বহুল প্রচলিত উক্তি হলো, ‘বেল পাকলে কাকের কী’? মধ্যযুগের কাব্য শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে আছে, ‘দেখিল পাকিল বেল গাছের উপরে/ আরতিল কাক তাকে ভখিতেঁ না পারে।’ কাকের অবশ্য আবর্জনা-উচ্ছিষ্টে যেমন রুচি, ফলফলাদি তার তেমন রুচে না। তবুও মাঝেমধ্যে সুযোগ-সুবিধা পেলে অন্যান্য ফলে সে ঠোকর দিয়ে থাকে বটে কিন্তু শক্তপোক্ত খোলসের কারণে বেলে তার চঞ্চুস্ফুটন অসাধ্য। শুধু কাকপক্ষীই নয়, ওই খোলসের জন্য অকালে ফল পাকানোর কলিকালের কায়দা-কৌশল থেকেও বেল সুরক্ষিত। রাসায়নিক তাকে দূষিত করে তোলেনি এখনো। বেল তার শ্রী নিয়েই আছে অকৃত্রিম। তাই এর আরেক নাম শ্রীফল।

আশীষ-উর-রহমান | প্রথম আলো
0 comments

Friday, April 15, 2011

কনকসুধা

কনকসুধা একটি লতানো ফুল আছে। সিসালপিনিয়া গণে আমাদের দেশে ঘনিষ্ঠ প্রজাতি রাধাচূড়া ও কনকচূড়া। কোনো কোনোটি এসেছে দক্ষিণ আমেরিকার উষ্ণ অঞ্চল থেকে। পাতার গড়ন প্রায় একই রকম হলেও গাছ একেবারেই আলাদা।
গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Caesalpinia enneaphyllum। বলধা গার্ডেনে অবশ্য কনকসুধা নামে একটি লতানো ফুল আছে। সিসালপিনিয়া গণে আমাদের দেশে ঘনিষ্ঠ প্রজাতি রাধাচূড়া ও কনকচূড়া। কোনো কোনোটি এসেছে দক্ষিণ আমেরিকার উষ্ণ অঞ্চল থেকে। পাতার গড়ন প্রায় একই রকম হলেও গাছ একেবারেই আলাদা।
কাষ্ঠল লতার গাছ। যৌগপত্র দুই পক্ষল, ২০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার লম্বা, প্রতিটি পক্ষে ৮ থেকে ১২ জোড়া আয়তাকার পত্রিকা, দেড় থেকে দুই সেন্টিমিটার লম্বা, ঘনবদ্ধ ও বিপ্রতীপভাবে বিন্যস্ত। ফুল হলুদ-সোনালি রঙের, ছোট টিউবের মতো, নিচের দিকে ঘণ্টার মতো ঝুলে থাকে। মোড়ানো পাপড়ির একটি অংশ ওপরের দিকে ওল্টানো, মাঝখানে পুংকেশরের ডগা কিছুটা কালচে রঙের। মঞ্জরি দণ্ড শাখাবহুল। ফুল নিচ থেকে ওপরের দিকে পর্যায়ক্রমে ফোটে। প্রধান প্রস্ফুটন মৌসুম কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাস। সিসালপিনিয়া মূলত উষ্ণ ও উপ-উষ্ণ অঞ্চলের গুল্ম কিংবা বৃক্ষ। বৃক্ষ, গুল্ম ও লতাসহ সারা বিশ্বে এদের দুই সহস্রাধিক রকমফের দেখা যায়।

মোকারম হোসেন |প্রথম আলো
0 comments

Tuesday, April 5, 2011

স্ট্রবেরী

স্ট্র-বেরী লাল রংঙের এই ফলটি দেখতে যেমন সুন্দর খেতেও খুব সুস্বাদু। হাল্কা টক যারা ভালবাসেন তাদের জন্য অমৃত্যের সমান। লতা জাতিয় গাছে জন্মে বলেই কি এর নাম স্ট্রবেরি – জানি না। তবে এর উপরিভাগ ভাল করে লক্ষ্য করলে মনে হয় খোদা-তাল্লা ফলটি তৈরি করে নরম উপরিভাগে তিলের মত বিচি ছড়িয়ে দিয়েছেন। রংয়ে আর ডংয়ে পুরা ফলটি দেখতে হ্রিদপিন্ডের মত। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল এই ফলের বিচি ফলের বাইরে থাকে। সম্ভবতঃ এটাই পৃথিবির একমাত্র ফল যার বিচি থাকে ফলের বাইরে।
স্ট্রবেরীর রস বিভিন্ন খাবার স্পেশালি জুসের সাথে মিশিয়ে নানা বৈচিত্র আনা হয়। এক সময় এটি আমেরিকতেই কেবল পাওয়া গেলেও ১৭৪০ সাল থেকে ইউরোপে এবং পরে নানা দেশে এর চাষ ছড়িয়ে পরে।
ফলটি দেখতে লাল হলেও এর ফুল কিন্তু পাঁচ পাঁপড়ি সাদা ফুল।
সম্প্রতি আমাদের দেশেও এর ব্যাপক উৎপাদন শুরু হয়েছে। পঞ্চগড়, রাজশাহী, টাঙ্গাইল এবং বরিশালের চাষীরা ব্যাপকভাবে এর উৎপাদন শুরু করেছে। ২০০৯ সালে এক কেজি স্ট্রবেরীর দাম ছিল ৮৫০ টাকা। বুঝাই যাচ্ছে এটি গরীবের ফল না। অতি মুল্যের পিছনে কারন সম্ভবতঃ কেবল উৎপাদন খরচই না, ফলটি খুবই সেন্সেটিভ – তাই প্রিজারবেশনে হয়ত খরচ খুব বেশি। বাংলার স্ট্রবেরী চাষীরা একে বিদেশে রপ্তানির স্বপ্ন দেখছে।
লিখেছেন : পাভেল রহমান
0 comments

পারুল

পারুলের ফুল সুগন্ধি ও তামাটে লাল রঙের। অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের মধ্যে আছে: গাছ ৩০-৪০ ফুট উঁচু, পাতা পক্ষবৎ যৌগিক ১২ থেকে ১৮ ইঞ্চি লম্বা, পত্রিকা সাত থেকে নয়টি, আয়তাকার, সূক্ষ্মকোণী, কচি অবস্থায় রোমশ। মঞ্জরিদণ্ড দীর্ঘ, রোমশ ও বহুপৌষ্পিক। ফুল এক থেকে দেড় ইঞ্চি লম্বা, ঘণ্টাকার, পাপড়ির ঠোঁট রোমশ নয়। বৈজ্ঞানিক নাম Stereospermum chelonoides (S. suaveolens)।









পারুল ময়মনসিংহে স্থানীয়ভাবে কামসোনালু নামে পরিচিত। গারোদের কাছে প্রচলিত নাম ভাতসিল। বিগোনিয়া জাতের এই ফুল মুলত আমেরিকার প্রদেশ থেকেই আমাদের দেশে গিয়েছিল বলে মনে করা হয়। এখানে একে Garlic Vine নামে চিনে।
0 comments

ধারমারা

ধারমারা ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম Stereospermum colais (Syn. T. personatum)। গাছটির গোড়ার দিকের বেড় প্রায় ১২ ফুট। ধূসর কাণ্ড, কচি ডালপালা রোমশ, পরে মসৃণ। যৌগপত্রে তিন-চার জোড়া পত্রিকা, প্রায় মসৃণ। ডালের আগায় শাখাবিভক্ত মঞ্জরিতে ছোট ফুল, আড়াই থেকে তিন সেন্টিমিটার লম্বা, দল নলাকার, দেড় ইঞ্চি লম্বা, মলিন সাদা, তাতে লালচে দাগ, ঈষৎ সুগন্ধি, পর্যায়ক্রমে ফোটে। ইংরেজি নাম ইয়েলো স্নেক ট্রি।
0 comments

Sunday, April 3, 2011

নাগলিঙ্গম

এ গাছটির গোড়ার দিকে প্রায় ১৮ ফুট এবং কাণ্ড ৩০ ফুট লম্বা। এর ফুল উজ্জ্বল গোলাপি, পাপড়ি গোলাকার কুলি্ল পাকানো, প্রস্ফুটিত ফুলের পরাগ কেশর অবিকল সাপের ফণার মতো, আর সে কারণেই উক্ত গাছের নাম নাগলিঙ্গম হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। নাগলিঙ্গম গাছের রয়েছে ব্যাপক ঔষধিগুণ। এর ফুলের কলি দিয়ে রস তৈরি করে খাওয়ালে প্রসূতি মায়ের সন্তান প্রসব সহজতর হয়।
এ গাছের ফুল বিষাক্ত সর্প প্রজাতি নাগ-নাগিনীর একান্ত সম্পদ। হাতির পেটের সমস্যার জন্য অত্যন্ত ফলদায়ক ঔষধি হিসেবে এ গাছের কচি পাতা খাওয়ানো হতো। আমাজান অঞ্চলের এ বৃক্ষকে এদেশের প্রতিকূল আবহাওয়ায় বাঁচে আছে।
0 comments

হলদে কলমি

আমাদের পুকুর, ডোবা বা জলাশয়গুলোতে কলমিলতা সহজদৃষ্ট এবং প্রায় সবার চেনা। সেই সঙ্গে কলমি ফুলও। এরা জলকলমি নামেও পরিচিত। শাক হিসেবেও কলমি বেশ সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন। ছবির ফুলটিও কলমি জাতেরই (Ipomea spp.) ফুল। তবে আমাদের দেশে ততটা সহজলভ্য নয়।
গত বছরের এপ্রিল মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া পৌর এলাকার দেবগ্রামের ইকবাল আহমেদ খান ভারত সীমান্তঘেঁষা মুগরা ইউনিয়নের নুনাসার গ্রাম থেকে মাটি নিয়ে আসেন তাঁর পুকুরপাড় বাঁধানোর জন্য। মাটি ফেলার দিন কয়েক পর নতুন মাটিতেই কয়েকটি চারা জন্মে। ইকবাল আহমেদ চারাগুলো নষ্ট না করে বাড়তে দেন, যত্ন-আত্তি করেন। গত মার্চ মাসে সেই লতানো গাছজুড়েই ফুল ফুটেছে। ফুলগুলোর নান্দনিক শোভা উপভোগ করতে সেই বাড়িতে প্রায় প্রতিদিনই আসছে আশপাশের লোকজন। তারা এ ফুলের নাম দিয়েছে হাজারি ফুল।
ইকবাল আহমেদ জানান, যে গ্রাম থেকে মাটি সংগ্রহ করা হয়েছে, তার পাশেই আছে একটি খরস্রোতা নদী। ধারণা করা হয়, এই বীজগুলো নদীর মাধ্যমেই পলিবাহিত হয়ে ভারতের কোনো এলাকা থেকে এখানে এসেছে। অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মা জানিয়েছেন, এগুলো কলমি জাতের ফুল। আমাদের দেশে এদের ঘনিষ্ঠ প্রজাতি ঢোলকলমি, ভঁইকুমড়া, ছাগলখুরী ও মর্নিং গ্লোরি। বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে আছে এ ধরনের আরও কিছু ফুল। আবার এসবের মধ্যে রকমফেরও আছে। সবকিছু মিলিয়ে তালিকা মোটামুটি দীর্ঘ। কিন্তু সারা পৃথিবীতে আইপোমিয়া গণে প্রায় ৫০০ প্রজাতির গাছ দেখা যায়। সেই তুলনায় অবশ্য আমাদের তালিকাটি সংক্ষিপ্ত।
বর্তমানে নতুন নতুন আবাদিত জাত এ সংখ্যাকে আরও সমৃদ্ধ করছে। এদের অধিকাংশই মর্নিং গ্লোরি নামে পরিচিত। বর্ণবৈচিত্র্যের কারণে সাধারণত বাগানের শোভা বৃদ্ধির জন্যই এর চাষ করা হয়।
লতা মাটিতে গড়ায়। দ্রুত বর্ধনশীল ও লম্বাটে হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। পাতা কালচে সবুজ, একক, পুরু, কিনারা গভীরভাবে বিভক্ত, রোমশ, দুই মিলিমিটার লম্বা। ফুল সাধারণত একক, ফোটে পাতার কক্ষে, হলুদ-সোনালি রঙের, ফানেল বা ভেরি আকৃতির, গন্ধহীন, ৩ থেকে ১৬ সেন্টিমিটার দীর্ঘ। প্রস্ফুটনকাল ফাল্গুন-চৈত্র। একসঙ্গে অসংখ্য ফুলের সোনালি আলোয় বর্ণের যে প্রাচুর্য ফুটে ওঠে, তার সৌন্দর্য সত্যিই উপভোগ্য।

মোকারম হোসেন | প্রথম আলো
0 comments

Tuesday, March 29, 2011

কেশিয়া নডোজা

বাংলা প্রবচনের ‘হাইকোর্ট দেখানো’ কোনো সুখকর আয়োজন নয়। তবে ঢাকার হাইকোর্টের অবস্থা ভিন্ন। সেখানে মানুষ যাচ্ছে দর্শনীয় নিদর্শন দেখতে। এর একটি দক্ষিণ প্রান্তবর্তী মাজার শরিফ। সেখানে প্রতিদিনই বহু ভক্ত-দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে থাকে। বিনয়-ভক্তি নিয়ে তাঁরা সেখানে সমবেত হন। অন্যটি নয়ন মনোহর। মাজার পেরিয়ে খানিকটা এগিয়ে গেলেই চোখে পড়বে ভবন সম্মুখে। সেটি মৌসুমি ফুল গাছ। পাতা তেমন নেই। সারা গাছজুড়ে কেবল ফুল আর ফুল। কোমল গোলাপির মধ্যে সফেদ আভাস। সরু শাখাগুলো ফুলে ফুলে আচ্ছাদিত। ডগায় একগুচ্ছ কচিপাতার সবুজ ছোপ। এর স্নিগ্ধ লাবণ্য থেকে চোখ সরানো যায় না সহজে।
নাম কেশিয়া নডোজা। মধ্যম আকারের গাছ। আদি নিবাস মিয়ানমার, মলয়, আসাম, সিলেট ও চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চল। উদ্ভিদ বিজ্ঞানী দ্বিজেন শর্মা জানিয়েছেন, ‘গাছটি আমাদের দেশি, অথচ এর কোনো বাংলা নাম নেই।’ হাইকোর্ট ছাড়াও কেশিয়া নডোজা আছে রমনা উদ্যানে। কৃষ্ণচূড়া গাছের সঙ্গে নডোজার মিল আছে যথেষ্ট। তবে কৃষ্ণচূড়ার চেয়ে ডালপালা বেশ ছড়িয়ে যায়। বেশ খানিকটা জায়গাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা শাখাগুলো প্রায় মাটির কাছাকাছি পর্যন্ত নুয়ে পড়ে। ছায়াও হয় নিবিড়। শাখা কৃষ্ণচূড়ার মতো ভঙ্গুরও নয়। পাতা একপক্ষল, যৌগিক। কাণ্ড তেমন লম্বা হয় না। বর্ণ ধূসর এবং গাঁটযুক্ত। ফাল্গুনের শুরুতেই পাতা ঝরতে থাকে। সরু রিক্ত শাখাগুলো তখন দেখায় মরা কাঠির মতো। তবে সেই হতশ্রী দশা অবশ্য তেমন দীর্ঘ স্থায়িত্ব পায় না। বসন্তের শেষভাগ থেকেই দেখা দেয় মঞ্জরি। দিনে দিনে নয়নাভিরাম ফুলে ফুলে শাখাগুলো ভরে ওঠে। তখন তার এই অপার ঐশ্বর্যের ধারে-কাছে আর কেউ থাকে না। ফুল থাকেও বেশ অনেকটা সময়, প্রায় বর্ষার মাঝামাঝি পর্যন্ত। নডোজার ফুল মৃদু সুরভিময়। মধুর লোভে সারা দিন গুনগুনিয়ে বেড়ায় মৌমাছির ঝাঁক।
নডোজার ফল লম্বা। দেখতে সোনালু ফলের মতো, লোকমুখে যার নাম বান্দর লাঠি। বীজ থেকে সহজেই চারা গজায়। গাছ শক্তপোক্ত বলে ঝড়ঝাপটায় সহজে ভাঙে না। চোখ জুড়ানো গাছটি বাড়ির আঙিনায় রোপণের জন্য আদর্শ। বাড়ির শোভাও খুলে যাবে তাতে।

-আশীষ-উর-রহমান
0 comments

Friday, March 25, 2011

কনকচাঁপা

কনকচাঁপা ফ্যাকাসে হলুদ রঙের মিষ্টি গন্ধের ফুল। এটি কুসুম ফুল, রামধন চাঁপা, মুচকুন্দ চাঁপা, কাঠচম্পা , মুচকুন্দ নানা নামে পরিচিত। বিশাল গাছেরপাতার উপরিভাগ উজ্জ্বল সবুজ, চকচকে আর মসৃণ। পেছনটা রুক্ষ ধূসর। গাছের উচ্চতা ৫০-৬০ ফুট হয়ে থাকে। উচ্চতার জন্য গাছে ফুল দেখা কঠিনই বটে। আরও কঠিন গাছ থেকে ফুল সংগ্রহ করা।

মুচকুন্দ চাঁপারা আড়াল বেশি পছন্দ করে। তবে ফুলপ্রেমীদের নিরাশ হওয়ার কিছু নেই। ফুল বাসি হলে ঝরে পড়ে। পুরো মুচকুন্দ তলা বাসি ফুলে ছেঁয়ে যায়। এভাবেই ফুল সংগ্রহ করতে হয়। এবার পকেটে, বইয়ের ভাঁজে, বালিশের তলায়—যেখনেই রাখুন সুগন্ধ শেষ হবে না!

এর বৈজ্ঞানিক নাম Ochna Squarrosa, উত্তর ও পশ্চিমবঙ্গে রামধন চাঁপা, পূর্ববঙ্গে কনকচাঁপা। বীজ থেকে সহজেই চারা গজায়, ফুল ফোটে পাঁচ-ছয় বছরে। রমনা পার্কের অরুণোদয় গেট দিয়ে ঢুকে সোজা পশ্চিমে কিছু দূর গিয়ে শেষ মাথার পাশে গোলচত্বরের পাশের ডানের রাস্তা ধরলে সামনেই পড়বে।

ফারুখ আহমেদ
0 comments
 
 

© Bluberry Template Copyright by উদ্ভিদ জগত

Template by Blogger Templates | Blog-HowToTricks