Posts Subscribe to This BlogComments

Follow Us

Tuesday, December 23, 2014

ম্যানচিনেলা

এটি একটি গাছ। চোখ দিয়ে দেখে এর ক্ষমতা আপনি বুঝতে পারবেন না। এর ক্ষমতা বুঝতে হলে আপনাকে এই গাছটিকে স্পর্শ করতে হবে। তবে স্পর্শ করার আগেই গাছটির সামান্য ক্ষমতা জেনে নিন। যদি আপনি এই গাছের রস স্পর্শ করেন তাহলে যে জায়গায় এই গাছের রস লাগবে সেই জায়গা সাথে সাথে ফোসকা পড়ে যাবে। এখানেই শেষ নয়। আরও ভয়ংকর ক্ষতিকর দিক রয়েছে এই গাছটির।
গাছটি দেখতে খুবই সুদর্শন। এই সুন্দর রূপের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে ভয়ংকরতা। মেক্সিকো উপসাগরের কাছে ক্যারিবিয় দ্বীপপুঞ্জের ম্যানচিনেলা( Hippomane mancinella) বা বিচ অ্যাপল নামে গাছটি পরিচিত। বিচ অ্যাপল অথবা ‘ডেথ অ্যাপল’ খেতে খানিকটা মিষ্টি এবং এর সুঘ্রাণ ক্ষুধা উদ্রেক করে।

ক্ষতিকর দিক:
এই গাছের শাখা প্রশাখা, পাতা এমনকি ফলে এক ধরণের বিষাক্ত রস নিঃসৃত হয়, যা কিনা ত্বক স্পর্শ করার সাথে সাথে ফোসকার সৃষ্টি করে। চোখে লাগলে যে কেউ সাথে সাথে অন্ধও হয়ে যেতে পারেন।এমনকি বৃষ্টির দিনে এই গাছের নিচে আশ্রয় নেয়াও বারণ, কারণ বৃষ্টির পানির সাথে মিশে এই রস শরীরে লেগে যেতে পারে।
যদি কেউ এই গাছের কোনো অংশে কামড় দেয় তাহলে তার মুখগহবর থেকে শুরু করে পাকস্থলি পর্যন্ত জ্বলে যেতে পারে। যদি কেউ জ্বালানি হিসেবে এই গাছের কাঠ ব্যবহার করে তাহলে এ থেকে যে ধোঁয়া তৈরি হবে সেই ধোঁয়ার কারণেও মানুষ অন্ধ হয়ে যাবে।
এই গাছের ব্যবহার:
মানবদেহের জন্য মারাত্নক ক্ষতিকর এই গাছ থেকে যে কাঠ উৎপন্ন হয় তা দিয়ে শুধুমাত্র আসবাবপত্র তৈরি করা হয়। এছাড়া প্রাচীনকালে শিকারিরা এই গাছের রস বিষ হিসেবে তীরের ফলায় ব্যবহার করতো।
আন্তর্জাতিক অর্জন:
যেই গাছের এতোটা ক্ষমতা সেই গাছ যদি কোনো স্বীকৃতি না পায় তাহলে গাছটির প্রতি বড়ই অবিচার করা হবে। তাইতো গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড এর দেয়া ‘সবচাইতে বিপদজনক গাছ’ এর তকমা জুটেছে গাছটির ভাগ্যে।
যদি কেউ ভুল করে স্পর্শ করেন:
অনেকে না জেনে ভুল করে গাছ ও গাছের কষ স্পর্শ করেন। যদি কেউ এরকমটি করে ফেলেন তাহলে বিষে আক্রান্ত স্থানটি সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর পুড়ে গেলে বেশি করে পানি ঢেলে দিতে হয়। ক্ষতস্থান ফুলে গেলে অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ লাগাতে হবে। সেই সাথে ডাক্তারের শরনাপন্ন অবশ্যই হতে হবে।
Read More...

Tuesday, November 26, 2013

হট লিপস

ফুলের সুবাস নিতে কে না চায়।পৃথিবীতে এমন কোন মানুষ নেই যারা ফুলকে ভালোবাসে না। আর এর জন্য মানুষ ফুলের ঘ্রানকে নাকে টেনে নেয়। অনেকে ফুলকে চুমু খেতেও ভালোবাসে। আর এ চুমু খাওয়ার জন্য মানুষকে ঠোঁট এগিয়ে দিতে হয়। কিন্তু মজার বিষয় হল পৃথিবীতে এমন একটি ফুলের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা কিনা নিজেই চুমু খাওয়ার জন্য ঠোঁট বের করে আছে। ফুলটি দেখলে মনে হবে চুমু খাওয়ার জন্য অপেক্ষায় আছে সে।
লেখাটি পড়লে অনেকেই অবিশ্বাস করতে পারেন।কিন্তু বাস্তবেই এ ধরনের ফুলের অস্তিত্ব আছে। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়া ,কোস্টারিকা, পানামা এবং ইকয়েডরে এ ধরনের ফুল সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এই ফুলটির আসল নাম সাইকোট্রিকা এলাটা। অনেকে এই ফুলটিকে হুকারস লিপস, দ্যা হট লিপস বলেও ডেকে থাকে।
তবে যে ফুলটিকে তারা চুমু ফুল (Kiss Lips Flower) হিসেবে বলে থাকে সেটি আসলে ফুলের মূল অংশ নয়। প্রথমে বের হয় পুষ্প মঞ্জুরিটি। যার মধ্যে থেকে বের হয় এর আসল ফুলটি। যেটি আর লিপিস্টিকের মত দেখতে নয়। এটির রঙ সাদা। যা একটি গোখরা সাপের মুখের ভেতর থেকে বের হওয়া জিহ্বার মত প্রায়।
Read More...

Wednesday, May 1, 2013

থানকুনি

আমাদের দেশের খুব পরিচিত ভেষজগুণ সম্পন্ন একটি পাতা হচ্ছে থানকুনি পাতা। এর ল্যাটিন নাম centella asiatica। থানকুনি পাতা বাংলাদেশের সবজায়গায় জন্মায়। বাসা-বাড়ির সৌন্দর্য অংশ হিসেবে অনেকে আবার টবে রোপণ করে থাক এই পাতা। এছাড়া থানকুনি পাতা দিয়ে তৈরি করা যায় সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার।

থানকুনি পাতার রয়েছে নানা ভেষজগুণ। যেমন- নিয়মিত থানকুনি পাতার রস খেলে ত্বক ও চুল সুন্দর থাকে। জ্বর, পেটের পীড়া, আমাশয়, আলসার, বাতসহ অনেক রোগের ওষুধ হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়। মুখের ভিতরে ঘা হলে থানকুনি পাতা সিদ্ধ পানি দিয়ে কুলি করলে ঘা কমে যায়। বাচ্চাদের কথা স্পষ্ট না হলে প্রতিদিন এক চামচ থানকুনি পাতার রস গরম করে খাওয়ালে কথা স্পষ্ট হয়।

এছাড়া ঠাণ্ডা-কাশি হলে ১ টেবিল চামচ থানকুনির রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে ভালো ফল পাওয়া যায়। যাদের স্নায়ুতন্ত্র দুর্বল, তারা নিয়মিত থানকুনি পাতা খেলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।

থানকুনি পাতার ভর্তা ভোজনরসিক বেশিরভাগ বাঙালির প্রিয় খাবারের মধ্যে একটি। চলুন তাহলে জেনে নিই কিভাবে সহজে তৈরি করা যায় থানকুনি পাতার সুস্বাদু ভর্তা।

উপকরণ: থানকুনি পাতা ৪০ থেকে ৫০টি, কাচামরিচ ২টি, রসুন ১টি, লবণ পরিমাণমত।

প্রস্তুত প্রণালী: থানকুনি পাতা কুচি কুচি করে কেটে, কাচামরিচ, রসুন, লবণ মিশিয়ে পাটায় বেটে তৈরি করে নিতে পারেন সুস্বাদু থানকুনি পাতার ভর্তা।

অথবা

উপকরণ: থানকুনি পাতা ৪০ থেকে ৫০ টি, পিয়াঁজ ১টি, শুকনো মরিচ ২টি, সরিষার তেল ও লবণ পরিমাণ মত।

প্রস্তুত প্রণালী: প্রথমে শুকনা মরিচ তেলে ভেজে নিতে হবে। পিঁয়াজ ও থানকুনি পাতা কুচি কুচি করে কেটে নিতে হবে। এরপর পিয়াঁজ, মরিচ, লবণ ও সরিষার তেল দিয়ে মেখে এর সঙ্গে থানকুনি পাতা মেখে নিলেই হয়ে যাবে ভর্তা।
Read More...

Thursday, January 24, 2013

শালগম

Turnip 2622027
শালগম একপ্রকারের মূল জাতীয় সবজি। যা সাধারণত সারাবিশ্বের উষ্ণমণ্ডলীয় জলবায়ু অঞ্চলগুলোতে ভালো জন্মে। এর ছোট ও ভালো জাতটি আমরা গ্রহণ করি। আর বড় আকারের শালগমগুলো পশু খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সবচেয়ে পরিচিত জাতের শালগম সাদা রঙের হয়। এটি মাটি হতে ১ থেকে ৬ সে.মি. ওপরে জন্মে। শালগমের ভেতরের অংশ সাদা রঙের হয়ে থাকে। এর শিকড় সাধারণত কৌণিক আকারের হয়, তবে মাঝে মাঝে তা টমেটোর মতো হয়ে যায়। আকারে যার ব্যাস দাঁড়ায় ৫ থেকে ২০ সে.মি.। দক্ষিণ-পূর্ব আমেরিকাতে শালগমের পাতাও খাওয়া হয়। সচরাচর ছোট পাতাগুলোই খাওয়ার জন্য পছন্দ করা হয়। কারণ বড় পাতাগুলোয় কটু স্বাদ থাকতে পারে। তবে বড় পাতা পানিতে সিদ্ধ করে পানি ফেলে দিয়ে পুনরায় নতুন পানিতে ভিজিয়ে কটু স্বাদ দূর করা যায়। বি. রাপা জাতের শালগম চাষ করা হয় শুধু পাতা খাওয়ার জন্য। এটি আবার চীনা বাঁধাকপি নামে পরিচিত। কাঁচা বাঁধাকপি বা মূলার মতো এতে ঝাঁঝালো স্বাদ থাকে, যা সেদ্ধ করার পর কমে আসে। ওজনে শালগমের মূল প্রায় ১ কিলোগ্রাম পর্যন্ত হতে পারে, তবে সাধারণত অত বড় হওয়ার আগেই তা জমি থেকে তুলে ফেলা হয়। ছোট শালগমকে পুরোপুরি খাওয়া যায় পাতাসহ। শালগম অতি প্রাচীন সবজি। আমাদের দেশে শীতকালে এই সবজির ব্যবহার বেশি হয়। শালগমের শেকড় উচ্চমাত্রার ভিটামিন সি-এর উত্স। এ ছাড়া শালগম পাতা ভিটামিন এ, ভিটামিন কে ও ক্যালসিয়ামের ভালো উত্স। শালগম পাতাতে উচ্চমাত্রার লুটেইনও থাকে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে শালগমের আচার বানানো হয়। জাপানে শালগমের আচার খুব জনপ্রিয়। মাঝে মাঝে তা কাঠিতে গেঁথে সয়াসস বা লবণের সাথে পোড়ানো হয়। ইরানে জ্বরের সময় শালগম ব্যবহার করা হয় শরীরের তাপমাত্রা কমাতে। আমাদের দেশেও এর নানা রকম ব্যবহার রয়েছে।
Read More...

Tuesday, December 11, 2012

খেজুর

খেজুর শুধু একটি খাবারই নয়, এর পুষ্টিমান ও অন্যান্য গুণাগুণ রোজাদার ও অন্যদের শরীরের অনেক চাহিদা যেমন পূরণ করে, পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের রোগ-ব্যাধি উপশমেও বেশ কার্যকর। খেজুরের মধ্যে আছে ক্যালসিয়াম, সালফার, আয়রন, পটাশিয়াম, ফসফরাস, ম্যাঙ্গানিজ, কপার, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি৬, ফলিক এসিড, আমিষ, শর্করাসহ একাধিক খাদ্যমান। খেজুরের বিভিন্ন ধরনের গুণাবলি নিয়ে দেখুন গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য। 

** ক্যানসার প্রতিরোধ

খেজুর পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং প্রাকৃতিক আঁশে পূর্ণ। এক গবেষণায় দেখা যায়, খেজুর পেটের ক্যানসার প্রতিরোধ করে। আর যাঁরা নিয়মিত খেজুর খান, তাঁদের বেলায় ক্যানসারের ঝুঁকিটাও অনেক কম থাকে।
** দুর্বল হূৎপিণ্ড
খেজুর হূৎপিণ্ডের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। তাই যাঁদের হূৎপিণ্ড দুর্বল, খেজুর হতে পারে তাঁদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ওষুধ।
** মুটিয়ে যাওয়া রোধে
মাত্র কয়েকটি খেজুর ক্ষুধার তীব্রতা কমিয়ে দেয় এবং পাকস্থলীকে কম খাবার গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে। এই কয়েকটি খেজুরই কিন্তু শরীরের প্রয়োজনীয় শর্করার ঘাটতি পূরণ করে দেয় ঠিকই।
** মায়ের বুকের দুধ
খেজুর বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েদের জন্য সমৃদ্ধ এক খাবার। এই খেজুর মায়ের দুধের পুষ্টিগুণ আরও বাড়িয়ে দেয় এবং শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
** হাড় গঠনে
ক্যালসিয়াম হাড় গঠনে সহায়ক। আর খেজুরে আছে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম, যা হাড়কে মজবুত করে।
** অন্ত্রের গোলযোগ
অন্ত্রের কৃমি ও ক্ষতিকারক পরজীবী প্রতিরোধে খেজুর অনেক সহায়ক এবং খেজুর অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরি করে।
** দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে
খেজুর দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়। সেই সঙ্গে রাতকানা রোগ প্রতিরোধেও খেজুর সহায়ক। তাই চোখের সমস্যায় ভোগা রোগীরা সচ্ছন্দে খেতে পারেন খেজুর।
** কোষ্ঠকাঠিন্য
খেজুরে আছে এমন সব পুষ্টিগুণ, যা খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে।
** সংক্রমণ
যকৃতের সংক্রমণে খেজুর উপকারী। এ ছাড়া গলা ব্যথা, বিভিন্ন ধরনের জ্বর, সর্দি এবং ঠান্ডায় খেজুর উপকারী।
** বিষক্রিয়া রোধে
খেজুর অ্যালকোহলজনিত বিষক্রিয়ায় বেশ উপকারী। ভেজানো খেজুর খেলে বিষক্রিয়ায় দ্রুত কাজ করে।
** শিশুদের রোগবালাই
শিশুদের জন্যও খেজুর খুব উপকারী। খেজুর শিশুদের মাড়ি শক্ত করতে সাহায্য করে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডায়রিয়াও প্রতিরোধ করে। তাই শুধু রমজান মাসে কেন, সারাটা বছর জুরেই খাদ্য তালিকায় থাকুক খেজুর।
Read More...

Saturday, December 1, 2012

অর্কিড

ফুল হিসেবে অকিডের সৌন্দর্য অন্যকিছুর সঙ্গে তুলনাই করা যায় না। কেননা ফোটা অবস্থায় এর আয়ু অন্য যে কোনো ফুলের চেয়ে বেশি। তাই ফুলপ্রেমী যে কোনো মানুষের প্রিয় ফুলের তালিকায় এর নামটি অনায়াসেই চলে আসে। আমরা সাধারণত দু'ধরনের অর্কিড দেখে থাকি_ এপিফাইটিক ও টেরেস্ট্রিয়াল অর্কিড। এপিফাইটিক অর্কিড বড় কোনো গাছকে আশ্রয় করে বেড়ে ওঠে। মাটিতে জন্মায় টেরেস্ট্রিয়াল অর্কিড, এর পরিচর্যা করা তুলনামূলকভাবে সহজ।
সমানভাবে পাতা পচা সার, পুরনো গোবর, সাধারণ মাটি, একটু মোটা দানার বালি ও ছোট ছোট কাঠ-কয়লা মিশিয়ে অর্কিডের জন্য মাটি তৈরি করতে হয়। টবে মাটি ভর্তি করার পর গোড়ায় বেশি ইটের টুকরা দিতে হয়, যাতে পানি না দাঁড়ায়। টবের ওপর অর্কিড গাছ এমনভাবে বসাতে হয় যাতে এর কোনো অংশ সার মাটির নিচে
থাকে না।
এপিফাইটিক অর্কিড অন্য কোনো বড় গাছকে আশ্রয় করে হয়। বড় গাছের ডালের ছাল সামান্য তুলে সেখানে অর্কিডের কোনো একটি ছোট অংশ নিয়ে লাগিয়ে বেঁধে দিতে হবে। এরপর নিয়মিত পরিচর্যা করলে অর্কিড হবে। আমাদের দেশে আম, কাঁঠাল ও বটগাছের
ডালে এমনিতেই অনেক সময় এক ধরনের অর্কিড জন্মাতে দেখা যায়। সাধারণত গ্রীষ্ম ও বর্ষা ঋতুতে অর্কিড বাড়ে আর শীতকালে বিশ্রাম নেয়।
টবের অর্কিডে গ্রীষ্মকালে দু'বার পানি দিলেই চলে আর বর্ষায় তার প্রয়োজন হয় না। শীতকালে দিতে হয় একবার। পানি পিচকারি দিয়ে দিলে ভালো হয়। পানি দেওয়ার সময় অবশ্যই পাতা ও গাছ ভালো করে ভিজিয়ে দিতে হবে। অর্কিড আর্দ্র অবহাওয়া পছন্দ করে। এর কাছাকাছি স্থান স্যাঁতসেঁতে কিংবা পানিভর্তি বড় টব থাকলে ভালো হয়। কারণ এমন স্থানে অর্কিড সহজেই তার প্রয়োজনীয় খাবার উৎপন্ন করতে পারে।
অর্কিডের রোগাক্রান্ত পাতা ও শেকড় পরিত্যক্ত অবস্থায় রাখা ঠিক নয়। এগুলো মাটিতে পুঁতে অথবা পুড়িয়ে ফেলা উচিত। অর্কিডে কালো ছাড়া যে কোনো রঙের ফুল হয়। বন জঙ্গল থেকে বিচিত্র রঙ ও রকমের অর্কিড সংগ্রহ করে শখের বাগান করা সম্ভব হয়। তাছাড়া ছোট-বড় নার্সারিতেও নানা রকম অর্কিড বিক্রি হয়।

হোসেন শহীদ মজনু
Read More...

Sunday, November 4, 2012

আকন্দ

আকন্দ এক প্রকার ঔষধি গাছ। এর বৈজ্ঞানিক নামঃ Calotropis gigantea, C. procera। গাছটির বিষাক্ত অংশ হলো পাতা ও গাছের কষ। কষ ভীষণ রেচক, গর্ভপাতক, শিশু হন্তারক, পাতা মানুষ হন্তারক বিষ।
আকন্দ এক প্রকার গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। এই গাছ সাধারণত: ৩-৪ মিটার পর্যন্ত উচুঁ হয়ে থাকে। আকন্দ দুই ধরণের গাছ শ্বেত আকন্দ ও লাল আকন্দ। শ্বেত আকন্দের ফুলের রং সাদা ও লাল আকন্দের ফুলের রং বেগুনি রং এর হয়ে থাকে। গাছের পাতা ছিড়লে কিংবা কান্ড ভাঙ্গলে দুধের মত কষ (তরুক্ষীর) বের হয়। ফলসবুজ,অগ্রভাগ দেখতে পাখির ঠোটের মত। বীজ লোম যুক্ত,বীজের বর্ণ ধুসর কিংবা কালচে হয়ে থাকে।
এই উদ্ভিদ বাংলাদেশের সর্বত্র পাওয়া যায়। রাস্তা পাশে এবং পরিত্যক্ত স্থানে বেশি পাওয়া যায়। আকন্দের পাতায় এনজাইম সমৃদ্ধ তরুক্ষীর বিদ্যমান। এতে আছে বিভিন্ন গ্লাকোসাইড,বিটা-এমাইরিন ও স্টিগমাস্টেরল আছে।

উপকারিতা / লোকজ ব্যবহার: আকন্দ চুলের রোগ, ব্যাথা এবং বিষনাশে বিশেষ কার্যকরী। দাদ ও টাকপড়া নিবারক। আকন্দের কষ তুলায় ভিজিয়ে লাগালে দাত ব্যথা দুর করে এবং যোনিতে ধারণ করলে গর্ভপাত ঘটায়। আকন্দ বাদ বেদনা নিবারক ও ফোলা অপসারক। আকন্দ পাতা ও হলুদের তৈরি বড়ি শোথ/ ফোলা/পান্ডু রোগ নাশখ এবং রস কৃমি নাশক।

কোন অংশ কি ভাবে ব্যবহার করতে হয়:
অম্বল/এসিডিটি দেখা দিলে: ০.৬৫ গ্রাম পরিমাণ আকন্দ পোড়া ছাই পানিসহ পান করলে সঙ্গে সঙ্গে উপকার পাওয়া যায়।
পেট কাপড়ানি বা পেট জ্বালায়: আকন্দ পাতার সোজা দিকে সরিষার তেল মাখিয়ে পাতাটি অল্প গরম করে পেটের উপর রাখলে বা ছেঁক দিলে পেট কামড়ানো বা পেট জ্বালা বন্ধ হয়।
শোথ/ফোলা রোগে: আকন্দ বিশেষ উপকারী। ফোলাজনিত কারনে কোন স্থান ফুলে উঠলে আকনদ পাতা বেঁধে রাখলে উপকার পাওয়া যায়।
শ্বাস কষ্টে: আকন্দের শিকড়ের ছাল প্রথমে গুড়া করে তারপর আকন্দের আঠায় ভিজিয়ে রেখে পরে শুকিয়ে নিতে হবে। এর পর তা চুরুট বানিয়ে ধুমপান করলে শ্বাস কষ্ট ভাল হয়।
নিউমোনিয়াজনিত বেদনায়: আকন্দ পাতার সোজা দিক ঘি মেখে ব্যথার জায়গায় বসিয়ে লবনের পুটলি দিয়ে ছেক দিলে উপকার পাওয়া যায়
হজম শক্তি কমে গেলে: ২ গ্রাম পরিমাণ শুকনো আকন্দ মুল গুড়া করে খেলে ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়।
Read More...

Wednesday, October 31, 2012

অলিয়া

ওসমান্থাস খুব ছোট্ট আকৃতির সাদা ফুল। চীন এর আদি বাসস্থান। ঐতিহ্যগতভাবে ফুলটি সেখানে ভালোবাসা ও বিশ্বাসের প্রতীক। এর উদ্ভিদবিজ্ঞানীয় নাম Osmanthus fragrans। সম্পূরক নাম Olea fragrans ও Olea ovalis। টি-অলিভ ও সুইট-অলিভ নামেও এটি পরিচিত। আর জাপানে এর পরিচয় Kinmokassei, পরিবার Oleaceae।
Osmanthus গ্রিক শব্দ। Osona হলো সুগন্ধ। anthus হচ্ছে ফুল। সুগন্ধি ফুল ওসমান্থাসের ঘ্রাণ অনেক দূর থেকে পাওয়া যায়। গন্ধ অচেনা নয়, তবে ব্যতিক্রমী। একটু দ্বিধাদ্বন্দ্ব, মিল খোঁজা, শেষে রহস্য ভেদ করতে চাইলে ওসমান্থাসের সঙ্গে পাকা বেলের গন্ধের কিছু মিল পাওয়া যায়।
উনিশ শতকের মধ্যভাগে ফ্রান্সের উদ্ভিদবিজ্ঞানী Jean Marie Delavay প্রথম চীন দেশের বাইরে এর পরিচিতি তুলে ধরেন। ছোট্ট আকৃতির গাছ ওসমান্থাস। উচ্চতা তিন-চার ফুটের মতো। ওলিয়েস পরিবারভুক্ত গাছগুলো বেশির ভাগই ধীরগতিতে বাড়ে। ওসমান্থাসও এর ব্যতিক্রম নয়।
ওসমান্থাসের ডিম্বাকৃতি গাঢ় সবুজ পাতার সঙ্গে চা ও ক্যামিলিয়ার চমৎকার মিল রয়েছে। শুধু মিল নয়, সবুজ ও কালো চায়ের সঙ্গে এর ব্যবহার চীনে ঐতিহ্যগত। সচরাচর আমরা যে চা খাই, সে চায়ের সঙ্গে অথবা গ্রিন বা ব্ল্যাক টির সঙ্গে অল্প পরিমাণ ওসমান্থাস ও জেসমিনের পাপড়ির মিশ্রণ একটি পাত্রে বিশেষ প্রক্রিয়ায় মুখ বন্ধ করে কয়েক সপ্তাহের জন্য রেখে দিতে হয়। সে চা পরিবেশন করা হয় বিশেষ দিন বা বিশেষ অনুষ্ঠানে।
চীন দেশে সেপ্টেম্বর মাস ওসমান্থাসের সেরা সময়। তখন সেখানে চন্দ্র-উৎসব হয়। সে উৎসবের মূল আকর্ষণও এই ফুল। ওসমান্থাস ফুল দিয়ে নববধূকে বরণ করাও চীনা রীতির অন্যতম একটি অংশ।
Read More...

Tuesday, September 25, 2012

মেহগনি

মেহগনির ধূসর বর্ণের ফলের ভেতরে বিচি থাকে। বিচির রং খয়েরি। ওপরের আবরণ শক্ত।


উপকারিতা
* ডায়াবেটিক রোগীরা রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য মেহগনি ফলের বিচির ভেতরের সাদা শাঁস পানিতে ভিজিয়ে খেতে পারেন। এতে সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
* মেহগনিগাছের বাকলের নির্যাস শক্তিবর্ধক এবং হজমশক্তি বাড়ায়।
* বিচি, ফল ও মূলের গুঁড়ো খেলে ক্যান্সার প্রতিরোধ হয়।
* মেহগনি বীজের সাদা অংশ দিয়ে তেল তৈরি হয়। এই তেল ভেষজ কীটনাশক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
Read More...

বাতাবি লেবু


ভিটামিন 'সি'-সমৃদ্ধ দেশি ফল বাতাবি লেবু। অঞ্চলভেদে কোনো স্থানে বাতাবি লেবুকে আবার জাম্বুরা বলে। বাতাবি লেবু ভারত, চীন, জাপান, ফিজি, দক্ষিণ আফ্রিকা, এমনকি আমেরিকায়ও উৎপন্ন হয়। স্থানভেদে বাতাবি লেবু বা জাম্বুরার ভেতরের রসাল কোষগুলো হলুদ, লাল, গোলাপি হয়ে থাকে। ভেতরের রসাল কোষগুলোর ঘনত্ব বেশি এবং খুব সহজেই রস বা জুস তৈরি করা যায়।

পুষ্টিগুণ

প্রতি ১০০ গ্রাম বাতাবি লেবুর মধ্যে ক্যালোরি আছে ৩৭ কিলো ক্যালোরি, শর্করা ৯.২ গ্রাম, মুক্ত চিনি থাকে ৭ গ্রাম, সামান্য খাদ্যআঁশ, প্রোটিন ও ফ্যাট বর্তমান। বিটা ক্যারোটিনের পরিমাণ ১২০ মা.গ্রা., ভিটামিন ৬০ গ্রাম, ভিটামিন 'বি'ও থাকে। ক্যালরি কম থাকায় ডায়াবেটিস ও স্থুলকায়দের জন্য খুবই উপকারী ফল।

উপকারিতা

* এসিডিটি বা গ্যাস প্রতিহত করে।
* বায়োফ্লভনয়েড বেশি থাকায় ব্রেস্ট ক্যান্সারের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
* ভিটামিন 'সি' বেশি থাকায় রক্তনালির সংকোচন-প্রসারণ ক্ষমতা বাড়ায়।
* ডায়াবেটিস, জ্বর, নিদ্রাহীনতা, মুখের ভেতরে ঘা, পাকস্থলী ও অগ্ন্যাশয়ের বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
* কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে, সেই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের হৃদরোগের হাত থেকে রক্ষা করে।
* ওজন কমানোয়ও বিশেষ ভূমিকা রাখে।
* রক্ত পরিষ্কারের ক্ষমতা থাকায় দেহে কোনো ধরনের বিষাক্ত উপাদান প্রবেশ করলে ধ্বংস করতে পারে।
* প্রতিদিন এক গ্লাস করে বাতাবি লেবু জুস করে খেলে ক্যান্সার প্রতিরোধে কাজ করে।

যেভাবে খাওয়া হয়

সাধারণভাবে চামড়া ছাড়িয়ে ভেতরের কোষগুলো খাওয়া, জুস করে, ফ্রুট সালাদ হিসেবে, বিভিন্ন ধরনের ক্যান্ডি বা চকোলেট তৈরিতে বাতাবি লেবু ব্যবহার করা হয়। মিষ্টি স্যুপ তৈরিতেও ব্যবহার হয়।
 সৈয়দা শারমিন আক্তার
প্রিন্সিপাল
নিউট্রিশনিস্ট অ্যান্ড সিইও , ডায়েট কাউন্সেলিং সেন্টার
Read More...

Saturday, September 22, 2012

পরশ পিপুল

পরশপিপুল (Thespesia populnea Syn: Hibiscus populnea) মূলত উপকূলীয় অঞ্চলের বৃক্ষ। সেখানে প্রাকৃতিকভাবেই জন্মে। পৃথিবীর প্রায় সব উষ্ণ অঞ্চলেই সহজলভ্য। ধারণা করা হয় যে এরা পৃথিবীর প্রাচীন বৃক্ষরাজির অন্যতম প্রতিনিধি। সারা বিশ্বে Portia বৃক্ষ নামে বেশি পরিচিত। আমাদের দেশে ‘বলু’গাছ নামেও পরিচিত। প্রচলিত অন্যান্য নামের মধ্যে Indian Tulip Tree, Pacific Rosewood, Seaside Mahoe ইত্যাদি অন্যতম।

বাসি এবং সতেজ ফুলের রং ভিন্ন ভিন্ন হওয়ায় খুব সহজেই নজরকাড়ে। পাতার গড়ন, ডালপালার বিন্যাস এবং অবারিত প্রস্ফুটন এ গাছকে আকর্ষণীয় বৃক্ষের মর্যাদা দিয়েছে। তবে উপকূল থেকে দূরের গাছগুলোর ফুল ও পাতার গড়নে কিছুটা ভিন্নতা লক্ষ করা যায়। ঢাকায় খুব একটা চোখে পড়ে না। জানামতে, রমনা উদ্যানের অরুণোদয় ফটক পেরিয়ে সোজা এক শ গজ সামনে গেলে পাওয়া যাবে একটি গাছ। ধানমন্ডি ৩২ নম্বর লাগোয়া লেকের পাড়েও আছে একটি। সেগুনবাগিচায় (গণপূর্ত ভবনের পাশে) স্থাপত্য অধিদপ্তর প্রাঙ্গণে স্থপতি আলপনা চাকমার লাগানো নবীন গাছটিতেও ফুল ফুটতে শুরু করেছে। কোটির অধিক মানুষের এই শহরে মাত্র এ কয়েকটি গাছ!

পরশপিপুল মাঝারি আকৃতির চিরসবুজ বৃক্ষ, ৭ থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। পাতা তাম্বুলাকৃতির, ১২ সেমি পর্যন্ত লম্বা হতে পারে, বোঁটা পাঁচ সেমি দীর্ঘ। অশ্বত্থ পাতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মিল রয়েছে। তবে অশ্বত্থ পাতার মতো লম্বা লেজ নেই। অশ্বত্থের আরেক নাম পিপুল। সম্ভবত পাতার সাদৃশ্যই এই নামকরণ। ফুল একক বা সজোড়, পাঁচ থেকে সাত সেমি চওড়া, হালকা হলুদ। ভেতরে গাঢ় লাল দাগ। অনেকগুলো পরাগকেশর যুক্ত জবা ফুলের মতো, বাসি ফুল লালচে।

প্রস্ফুটনকাল গ্রীষ্ম-বর্ষা হলেও প্রায় সারা বছরই দু-একটি ফুল দেখা যায়। ফল গোলাকার, তিন সেমি চওড়া, পাঁচ খণ্ড ও শক্ত। আপনাআপনিই ফেটে যায়। সাধারণত বীজ থেকেই বংশবৃদ্ধি।

এ গাছের কাঠ দৃঢ় ও স্থায়ী। সাধারণত নৌকা, বন্দুকের বাঁট, গরুর গাড়ি ও চাষের যন্ত্রপাতি তৈরিতে ব্যবহার্য। বাকল থেকে আঁশ এবং ফুল থেকে হলুদ রং পাওয়া যায়। তা ছাড়া শিকড় টনিক, বাকল অরেচক, আমাশয় ও চর্মরোগের ওষুধ। বীজের তেল একসময় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহূত হতো।

মোকারম হোসেন |  প্রথম আলো
Read More...

Wednesday, August 29, 2012

টক চেরি

টক ও মিষ্টি চেরির গাছ প্রায় একই রকম। পার্থক্য শুধু স্বাদে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ৫০টির বেশি জাতের টক চেরির চাষ হতো। এপ্রিকট, চেরি ((Prunus spp.) ও নাশপাতির ফুল দেখতে প্রায় একই রকম। কিন্তু ফুল দেখে ফলের জাত আলাদা করা কঠিন। সারা পৃথিবীতে চেরি ফুল ও ফলের এতই রকমফের যে একটির সঙ্গে অন্যটির পার্থক্য অতি সূক্ষ্ম।
খেতে ততটা সুস্বাদু না হলেও টক চেরি সারা পৃথিবীতেই বেশ জনপ্রিয়। ইংরেজিতে Morello বা Sour Cherry নামেই পরিচিত। গাছ প্রজাতিভেদে গুল্ম থেকে শুরু করে আট মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। কোনো কোনো জাতের গাছ পাতা ও ডালপালায় বেশ ঝোপালো ধরনের। পাতা ৮ থেকে ১২ সেন্টিমিটার লম্বা, আগা আয়তাকার বা তীক্ষ। ফল দুই সেন্টিমিটার, সাধারণত লালচে বা কালো।
Nectarine Fruit Development
Read More...

Tuesday, August 14, 2012

কাউফল

বেশী মোটা নয়, মাঝারী বৃক্ষ। গাছের রংটা কিছুটা কালো, ডালপালা একদম কম, গাছের আগার দিকে ঝুপড়ির মতো কিছু ডাল-পালা দেখা যায়। সাধারনতঃ হেলে থাকে না-খালের কিনারায়, পুকুরের কিনারায় থাওলে হেলে থাকে। জঙ্গলে বেশী দেখা যায়।
ফলটি কাচা অবস্থায় গাঢ় সবুজ। সাইজ একটা টেবিল টেনিস বলের (পিংপং) সমান থেকে সামান্য বড় হতে দেখা যায়। পাকা ফল হলুদ বা কমলা রঙ এর হয়। ফলের ভিতরে ৪/৫টি দানা থাকে। ফল পাকার পর এই দানা চুষে খেতে হয়।
ফলটির স্বাদ টক—শুধু টক বললে ভুল হবে, অনেক বেশী টক। কিন্তু খেতে ভাল লাগে।
ঔষধিগুনঃ
সর্দিজ্বর ও ঠান্ডা প্রশমনে কাউফল উপকারী। এছাড়া এটি অরুচি দূর করে।
বাংলা নামঃ কাউ (কুমিল্লা) /কাউয়া (সিলেট, মৌল্ভীবাজার) /কাউ-গোলা (চাকমারা বলে থাকে) /কাগলিচু/তাহগালা (মারমা)/ক্যাফল (বাগেরহাট)।
ইংরেজী নামঃ Cowa (mangosteen)
বৈজ্ঞানিক নামঃ Garcinia cowa
জাতঃ
বাংলাদেশে কাউফলের অনুমোদিত কোন জাত নেই।
উৎপাদন এলাকাঃ
সিলেট, মৌলভীবাজার, খাগড়াছড়ি আর রাঙ্গামাটিতে এই ফল হতে দেখা যায়। কুমিল্লা অঞ্চলেও আমি এ ফলটি হতে দেখেছি। বাগেরহাটেও প্রচুর হয়।
Read More...

Monday, August 13, 2012

পাট

বাংলাদেশে পাটকে বলা হয় সোনালি আঁশ। সোনার বাংলার এক সময় সবচেয়ে অর্থকরী ফসল ছিল এই পাট। পাট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এ দেশে বহু হাট-বাজার-গঞ্জ গড়ে উঠেছে। পাট ও পাটজাত বিভিন্ন পণ্য তৈরির প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিল এ দেশের বহু মানুষের কর্ম। কিন্তু পাটের সে সুদিন আর নেই। বিশ্বজুড়ে একসময় পাটের চাহিদার মোট ৮০ শতাংশ সরবরাহ করত বাংলাদেশ। বর্তমানে মোট চাহিদার মাত্র ২৫ শতাংশ সরবরাহ করে বাংলাদেশ। এই অর্থকরী ফসলটি সরু লম্বা ডাঁটার মতো একটি দ্বিবীজপত্রী আঁশযুক্ত উদ্ভিদ। বাণিজ্যিকভাবে সাধারণত সাদা ও তোষা_এ দুই জাতের পাটের চাষ করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, চীন, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, ব্রাজিলে পাটের চাষ হয়ে থাকে।
ধারণা করা হয়, উড়িয়া শব্দ jhuta বা jota থেকে পাটের ইংরেজি শব্দ jute এসেছে। বাংলাদেশের প্রায় সব জেলায় পাট চাষ হলেও ফরিদপুর, যশোর, ঢাকা, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, জামালপুরই প্রধান পাট চাষের অঞ্চল। পাটের আঁশ থেকে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ও শৌখিন পণ্য তৈরি করা হয়। কাপড়, কার্পেট, বস্তা, রশিসহ বিভিন্ন জিনিস পাট থেকে তৈরি করা হয়। পাটের তৈরি দ্রব্যাদি পরিবেশবান্ধব হয়ে থাকে বলে এটি বর্তমান বিশ্বে সমাদৃত। বাংলাদেশে পাটজাত পণ্য তৈরির জন্য অনেক পাটকল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যদিও বৃহত্তম পাটকল নারায়ণগঞ্জের আদমজি জুটমিল লাভজনক প্রতিষ্ঠান না হওয়ার অজুহাতে সরকার বন্ধ করে দিয়েছে।


গ্রন্থনা : তৈমুর ফারুক তুষার
Read More...

Bangla Help

Sponsor