Posts Subscribe to This BlogComments

Follow Us

Tuesday, November 24, 2009

পান


পান একটি গাছের নাম। যার পাতাকে পান হিসেবে ডাকা হয়। এটি চিবিয়ে খাওয়ার জন্য ব্যবহার হয়। সাধারণত বয়স্ক লোকেরা পান খেয়ে থাকে। শহরে, গ্রামে সর্বত্রই প্রচুর পান দোকান ও পান খাদক দেখা যায়। পান খাওয়ার প্রভাবে দাঁত লাল হয়ে যায়। অনেকে নেশার মত পান খায়। সেদিক বিচারে এটিও একটি নেশা জাতীয় দ্রব্য।দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পান একটি অতি পরিচিত খাবার। সাধারণত অতিথি আপ্যায়নে কিংবা কোন বৈঠকে আলোচনা শুরু করার উপলক্ষ্য হিসেবে পানের ব্যবহার দেখা যায়। যদিও পান গাছের পাতাকেই পান বলা হয়, পান বলতে মুলত পানের সাথে সুপারি, চুন ও নানান রকমের জর্দা (তামাক জাতীয় দ্রব্য), খয়ের ইত্যাদি একসাথে বোঝায়। পানের সাথে সবসময়ই সুপারি দেয়া হয়, তবে অনেকেই সুপারি ছাড়া পান খেতে পছন্দ করেন।
আন্তার্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা এজেন্সী'র মতে সুপারি ও পান এক ধরনের কার্সিনোজেন (বিষ) যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। সুপারি সহ পান খেলে মুখের ক্যন্সার হতে পারে। এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে সুপারি দিয়ে পান খেলে মুখের ক্যান্সারের ঝুকি ৯.৯ গুন (জর্দা সহ) এবং ৮.৪ গুন ( জর্দা ছাড়া)।
অন্যদিকে আয়ুর্বেদীয় শাস্ত্র মতে_
পূর্বাহ্নে সুপারী অধিক দিয়া
মধ্যাহ্নে খয়ের অধিক দিয়া
রাত্রে চুন অধিক দিয়া পান খাইতে হয়

পানে মধ্যভাগ প্রান্তভাগ এবং অগ্রভাগ বাদ দিয়া পান খাইতে হয়
পানের মধ্যভাগে ব্যাধি
প্রান্তভাগে আয়ুক্ষয়
অগ্রভাগ খাইলে পাপ হয়

পানের প্রথম পিক বিষতুল্য
দ্বিতীয় পিক দূর্জর
তৃতীয় পিক সুধাতুল্য বলিয়া উহা খাওয়া উচিৎ

পান এর ফুল সচরাচর দেখা যায় না। ছোট একটা মঞ্জরীদন্ডের চারপাশে ফুল গুলো ঘন হয়ে ফুটে থাকে। খুব গভীর ভাবে খেয়াল না করলে বোঝা যায় না।



পান গাছ অন্য কোন গাছকে আশ্রয় করে বড় হয়। এর শাখা প্রশাখা ও হয়ে থাকে। ১০-১৫ ফুট লম্বা হয়ে থাকে। আমাদের দেশে সাধারনত দু’প্রজাতির পান চাষ হয়ে থাকে। একটি পাহাড়ী এলাকায়, সেখানে পান গাছ গুলো অন্য কোন গাছের গোড়ায় লাগানো হয় এবং পান গাছ ঐ গাছ বেয়ে উপরের দিকে ওঠে। অন্যটি সমতল এলাকার পান, একটি সমতল জায়গায় পান চাষের জন্য তৈরী করা হয়, একে বরজ বলে। বরজ এর উপর দিক খড়, শন, অথবা সুপারী পাতা দিয়ে ছাউনি দেয়া থাকে। এর চারপাশটা ও সুপারী অথবা খেজুর পাতা দিয়ে ঘেরা থাকে।


গাছ থেকে কিছুদিন পর পর পান সংগ্রহ করা হয়। পান সংগ্রহ করার পর সুন্দর করে সাজিয়ে বাজারে নেয়া হয় বিক্রির জন্য।


পান সাধারনত সুপারী ও চুন সহযোগে খাওয়া হয়। অনেকে পানের সাথে তামাক ও খেয়ে থাকে।
বৈজ্ঞানিক নাম: Piper betle
গোত্র: Piperaceae

পান হল শরীরের জন্য খুব উপকারী৷ পানে প্রচুর মাত্রায় ক্লোরোফিল থাকে৷ এইজন্য পানের রস ওষুধের মত কাজ করে৷ পান বিভিন্ন রকমের হয়৷ মিঠা পাতি, মালবী, মাদ্রাসি, বেনারসী, কর্পুরী প্রভৃতি৷

পানের উপকারিতা
* পান পাচন শক্তি বাড়ায়৷
* গলার সমস্যায় পান খুব উপকারী৷ আওয়াজ পরিস্কার করতে পান সাহায্য করে৷
* রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রন করতে পান সাহায্য করে৷
* পান খেলে মুখের স্বাদ ফিরে আসে৷
* হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রন করে পান৷
* পান খেলে পেট পরিস্কার হয়৷
* সর্দি কাশি হলে পানের রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়৷
* পানের সঙ্গে গোলমরিচ, লবঙ্গ মিশিয়ে খেলে কাশি কমে যায়৷
* মুখে ঘা হলে পানের মধ্যে কর্পুর দিয়ে চিবিয়ে খেয়ে বার বার পিক ফেললে লাভ পাওয়া যায়৷
* পান খাওয়ার ফলে মুখে যে লালার সৃষ্টি হয় তা পাচন শক্তি বৃদ্ধি করে৷


তবে
* পানের সঙ্গে জর্দা মিশিয়ে খেলে পানের সন গুন নষ্ট হয়ে যায়৷

* সব সময় খাওয়ার পরে পান খাওয়া উচিত৷ খালি পেটে পান খাওয়া উচিত নয়৷
* তবে বেশী পান খেলে মুখ এবং চোখের রোগ হতে পারে৷
* পানের সঙ্গে বেশী সুপারী খাবেন না৷
* পানের সঙ্গে বেশী খয়ের খেলে ফুসফুসে ইনফেকশান হয়৷
* পানে বেশীমাত্রায় চুন খেলে দাঁতের ক্ষতি হয়৷
* যাদের জ্বর এবং দাঁতের সমস্যায় ভোগেন তাদের পান খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া উচিত৷
* পান উষ্ণ এবং পিত্তকারক৷ শিশুরা এবং অন্তঃস্বত্ত্ব মহিলাদের পান খাওয়া উচিত নয়৷
পান - ইহা রুচিকারক, রক্ত পিত্তজনক, বলকারক, কামভাব বর্ধক, ঘা বর্ধক, কফ নাশক, রাতকানা নাশক, বায়ু নিবারক, মুখ দূর্গন্ধ নাশক।
ছাঁচি পান - সুপথ্য, রুচি বর্ধক, অগ্নিদীপক, পাচক ও কফ বাত নাশক
সুপারী - কফ দুর করে, পিত্তের দোষ নষ্ট করে, মদকারক, অগ্নিবর্ধক, রুচিকারক, মুখের নিরসতা নাশক। কাঁচা সুপারী দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করে, পেটের অগ্নি নষ্ট করে, ত্রিদোষ নাশ করে।
সাদা জর্দা বা তামাক পাতা কোন গুন পাওয়া যায় নাই।
চুনা - ( যে চুন পানের সহিত খাওয়া হয়) মনে রাখিতে হইবে যে, পাথর চুনা শরীরের ক্যালসিয়াম অর্থাৎ শক্তিক্ষয় করে, জীবনী শক্তি নষ্ট করে, পাকস্থলীর শক্তি নাশ করে, এইজন্য কোন মতেই পাথর চুনা খাওয়া উচিত নহে।
ঝিনুক চুনা ও শামুক চুনা - শরীরের প্রভূত উপকার সাধন করিয়া থাকে
ঝিনুক চুনের গুন - এই চুন বাত, শ্লেষা, মেদো রোগ, অম্ল পিত্ত শূল, গ্রহনী, ব্রণ ও ক্রিমি রোগ নষ্ট করে। ৮ তোলা চুন দশ সের পানির মধ্যে দুই প্রহর ভিজিইয়া রাখিলে, সেই পানির সহিত দুধ মিশ্রিত করিলে মধু মেহ রোগ প্রশমিত হয়। ইহা অম্ল পিত্ত ও শূল রোগের পথ্য ও ঔষধ। ঝিনুক চুনের মধ্যে মুক্তার গুন পাওয়া যায়।




Related Post



0 comments:

Post a Comment

Bangla Help

Sponsor