Posts Subscribe to This BlogComments

Follow Us

Tuesday, January 18, 2011

জলপাই

জলপাই শতীকালীন ফল। স্বাদে বেশ টক। এজন্য আচার হিসাবেই জলপাই বেশি খাওয়া হয়। জলপাইয়ের তেল হূদরোগীদের জন্য খুবই উপকারী। এটি অসম্পৃক্ত চর্বির ভাল উৎস। এই তেল ত্বককে সুন্দর ও মসৃণ রাখে। ১০০ গ্রাম জলপাইয়ে রয়েছে ৭০ ক্যালরি, ১৬.২ গ্রাম শর্করা, ৩.১ মিলিগ্রাম লৌহ এবং ৩৯ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

আমাদের দেশে সবুজ জলপাই সহজলভ্য। পৃথিবীর অনেক দেশে কালো জলপাই জন্মে। জলপাইয়ের পাতা ও ফল দুটোই ভীষণ উপকারী। জলপাইয়ের রস থেকে যে তেল তৈরি হয় তার রয়েছে যথেষ্ট পুষ্টিগুণ। প্রচণ্ড পরিমাণে টক এই ফলে রয়েছে উচ্চমানের ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, ভিটামিন ই। এই ভিটামিনগুলো দেহের রোগজীবাণু ধ্বংস করে, উচ্চরক্তচাপ কমায়, রক্তে চর্বি জমে যাওয়ার প্রবণতা কমিয়ে হৃৎপিণ্ডের রক্তপ্রবাহ ভালো রাখে। ফলে হৃৎপিণ্ড থেকে অধিক পরিশোধিত রক্ত মস্তিষ্কে পেঁৗছায়, মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ে। ত্বকের কাটাছেঁড়া দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে। উচ্চ রক্তচাপ ও রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে এর রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এই ফলের আয়রন রক্তের আরবিসির কর্মশক্তি বৃদ্ধি করে। জলপাইয়ের খোসায় রয়েছে আঁশজাতীয় উপাদান। এই আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়ায়, কোলনের পাকস্থলীর ক্যান্সার দূর করতে রাখে অগ্রণী ভূমিকা। জলপাইয়ের পাতারও রয়েছে যথেষ্ট ঔষধি গুণ। এই পাতা ছেঁচে কাটা, ক্ষত হওয়া স্থানে লাগালে কাটা দ্রুত শুকায়। বাতের ব্যথা, ভাইরাসজনিত জ্বর, ক্রমাগত মোটা হয়ে যাওয়া, জন্ডিস, কাশি, সর্দিজ্বরে জলপাই পাতার গুঁড়া জরুরি পথ্য হিসেবে কাজ করে। মাথার উকুন তাড়াতে, ত্বকের ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাকজনিত সমস্যা দূর করার জন্য এই পাতার গুঁড়া ব্যবহার করা হয়। জলপাইয়ের তেল ব্যবহারের প্রচলনও কারও অজানা নয়। জলপাই পাতার গুঁড়া ও জলপাইয়ের তেল ব্যবহারে হাড় ও মাংসপেশির ব্যথা কমে। জলপাইয়ের তেল কুসুম গরম করে চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করলে চুলের পুষ্টি ও বৃদ্ধি ভালো হয়, চুলের ঝরে যাওয়া তুলনামূলকভাবে কমে।

Related Post



0 comments:

Post a Comment

Bangla Help

Sponsor