Posts Subscribe to This BlogComments

Follow Us

Tuesday, November 24, 2009

কাঁঠাল

পৃথিবীতে যতগুলি ফল আছে তারমধ্যে সবচেয়ে বড় ফলও এটি। বাংলাদেশের জাতীয় ফল হলো কাঁঠাল। দেশের সব এলাকাতেই এই ফলের গাছ দেখা যায়। তবে গাজীপুর, ঢাকা, কিশোরগঞ্জ, নওগাঁ, সাভার, মধুপুর, সিলেটে প্রচুর পরিমানে কাঁঠাল উৎপন্ন হয়। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা সহ বেশ কয়েকটি দেশেও এই ফল দেখা যায়। এই ফলের কাঁচা অবস্থায় নাম এঁচোড়। এটি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ আকৃতির ফল।
একেকটা কাঁঠালের ব্যাস ২৫ সেন্টিমিটারের মত আর লম্বায় ৯০ সেন্টিমিটার হয়। ওজন ৩-৭ কেজি স্বাভাবিকভাবে হয়ে থাকে এর বেশি ও হতে দেখা যায়। সাধারণত: লাল মাটিতে ও উচু এলাকায় বেশি দেখা যায়। গাছের কাঠ হলুদ রংএর, উন্নত মানের দামি কাঠ বলে সমাদৃত। একেকটা কাঠাল আবার অনেকগুলো কোষ তার খাঁজকাটা দেহের আড়ালে লুকিয়ে থাকে। হলুদ রঙের কোষগুলোর ভিতরে আবার একটা করে বীজও থাকে। একেকটা কাঁঠালে ৫০০ পর্যন্ত কোষ থাকতে পারে। এই কোষগুলো বেশ রসালো।
কাঁঠাল গাছ চিরসবুজ বৃক্ষ। উচ্চতায় ৯ থেকে ২৫ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। কাঁঠাল ও কাঁঠাল গাছের কোন অংশই ফেলনা নয়। প্রায় সব অংশই কাজে লাগে। এর কাঠ আসবাবপত্রের জন্য বেশ ভালো। আবার গাছের পাতা গবাদি পশুর প্রিয় খাদ্য। একটি কাঁঠাল পরিবারের সবার চাহিদা মেটাতে পারে। আবার ফলের উচ্ছিষ্ট অংশ গবাদি পশুর প্রিয় খাদ্য।
গাছের সব জায়গাতেই কাঁঠাল ধরতে পারে। একেবারে মাটির কাছে গোড়া থেকে শুরু করে অনেক উচুঁতেও ধরতে পারে। একটি গাছে গড়ে প্রায় ১৫০ টা পর্যন্ত কাঁঠাল ধরতে পারে। অসংখ্য হলুদ রং এর ছোট রসালো কোষ একত্রে মোথার চারদিকে ঘিরে থাকে। প্রতিটি কোষে বীজ থাকে ঐ বীজ থেকে গাছ হয়। মিষ্টি এবং বেশ পুষ্টিকর। নভেম্বর- ডিসেম্বর মাসে ফুল হয় এবং মে -জুন নাগাদ পাকে। কাচা অবস্থায় ও তরকারি হিসেবে খাওয়া যায়। এর প্রায় পুরো অংশই কাজে লাগে, ফল খাওয়ার পর এর উচ্ছিষ্ট অংশ গরুর খাবার হিসেবে ব্যবহার হয। বীজ শুকিয়ে আলুর বিকল্প হিসেবে খাওয়া যায় সিদ্ধ করে, আবার বাদামের মত বালুতে ভেজেও খাওয়া যায় । এছাড়া এর বীজ প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধিকারক বলে মনে করা হয়। সাধারণত একটা কাঁঠাল গাছ লাগানোর তিন বছরের মধ্যেই তাতে ফল ধরতে শুরু করে।
কাঁঠাল পাকলে এমনিতেই বেশ মিষ্টি। এর রসালো কোষগুলো থেকে মজাদার রসও হতে পারে। আবার অনেকে কাঁচা কাঁঠালও সব্জি হিসেবে খায়। এছাড়াও জ্যাম, জেলি, হালুয়া, পুডিং, চিপস, সালাদ প্রভৃতি মজাদার খাবারও বানানো যায়। এর যে বীজ আছে সেগুলোও ভেজে, ভর্তা করে খায় আমাদের দেশ সহ অনেক দেশেই ।

কাঁঠালকে ইংরেজিতে বলে jackfruit। কারণ একই ফলের মধ্যে অনেক ফল থাকে বলে এই নাম।পর্তুগিজ ভাষায় কাঁঠালকে বলে জাকা (jaca), যা মালয়লাম ভাষা চাক্কা (chakka) থেকে এসেছে।
আসামে কাঁঠাল থেকে এক ধরনের আচার তৈরি করা হয়।
ভারতের কেরালায় কাঁঠালের পুডিং তৈরি হয়। এছাড়া এক ধরনের চিপস তৈরি করে তারা কাঁঠাল থেকে।
ভিয়েতনামে গয় মিট নামের এক ধরনের সালাদ তৈরি করা হয় কাঁঠাল থেকে।
বাংলা ও হিন্দিভাষা কাঁঠাল বলা হলেও এই ফলের আরও অনেক নাম আছে। যেমন গুজরাটি ভাষায় পানাসি, নেপালিতে রুখ কুট-এ-হের, তামিল ভাষায় পালা, চীনাভাষায় বৌলমী বা পৌলমী, জাপানিতে পারামিটসু, কোরিয়ান ভাষায় বারামিল বলে।

জাতীয় ফল কাঁঠালে রয়েছে শর্করা, আমিষ, ভিটামিন ও মিনারেলস। এটি শুধু পুষ্টিকরই নয়, এর ক্যালরির পরিমাণও কম। অর্থাৎ প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁঠালে থাকে মাত্র ৯৪ ক্যালরি, যা শরীরের স্বাভাবিক ওজন বজায় রাখতে সাহায্য করে।
* কাঁঠাল পটাসিয়ামের ভালো উৎস। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁঠালে ৩০৩ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম থাকে, যা উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের রোগীদের জন্য উপকারী।
* কাঁঠাল ভিটামিন 'সি'র একটি ভালো উৎস। যেহেতু মানুষের শরীর নিজ থেকে তৈরি করতে পারে না, তাই খাবারের মাধ্যমে আমাদের ভিটামিন 'সি'র চাহিদা পূরণ করতে হয়। কাঁঠালের অ্যান্টি-অঙ্েিডন্ট ফ্রি রেডিক্যালসের ক্ষতি থেকে রক্ষা করার সঙ্গে সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। ফলে ঠাণ্ডাজনিত সর্দিকাশি, জ্বরসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে এবং চুল ও ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ায়।
* কাঁঠালে আরো রয়েছে ২৯৭ আইইউ ভিটামিন 'এ'সহ থায়ামিন, রিবোফ্লাবিন, আয়রন, সোডিয়াম, জিংক ও নায়াসিন। গ্রীষ্মকালে পর্যাপ্ত পরিমাণ কাঁঠাল খেলে দেহে যে পরিমাণ ভিটামিন 'এ' সঞ্চিত হয়, তা অন্ধত্ব প্রতিরোধ করে এবং মিউকাস মেমব্রেনের সংকোচনশীলতা বৃদ্ধি করে।
* কাঁঠালের ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট, যেমন_লিগনান্স, আইসোফ্লাভোন্স ও স্যাপোনিন্সে অ্যান্টিক্যান্সার, অ্যান্টি-আলসার ও অ্যান্টি-এজিং ক্ষমতা আছে, যা শরীরে ক্যান্সার সেলের বৃদ্ধি রোধ করে, ব্লাড প্রেশার কমায়, স্টমাক আলসার ও সেলের ডিগ্রেডেশনের হার কমায়। ফলে ত্বক হয় সুন্দর ও তারুণ্যদীপ্ত।
* মা এবং বাড়ন্ত শিশুদের জন্য এই ফল খুবই ভালো। কারণ এতে রয়েছে জিংক, কপার, ক্যালসিয়াম ও ফলেট।

* কাঁঠালে রয়েছে ডায়াটারি ফাইবার। যাঁদের কোষ্ঠকাঠিন্য রয়েছে, তাঁরা নিয়মিত কাঁঠাল খেলে উপকার পাবেন। এ ছাড়া ধারণা করা হয়, এই ফল টেনশন ও নার্ভাসনেস প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। কাঁঠালের সহজপাচ্য শর্করা ফ্রুক্টোজ ও গ্লুকোজ শরীরকে কাজের জন্য দ্রুত শক্তি জোগায় এবং মনকে করে তোলে চাঙ্গা।

Related Post



0 comments:

Post a Comment

Bangla Help

Sponsor