Posts Subscribe to This BlogComments

Follow Us

Thursday, January 27, 2011

চিনাবাদাম

অবসরে বা খেলার মাঠে বাদাম বিক্রেতার চিরচেনা হাঁকডাকে সচকিত হয়ে ওঠে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। আর বৃষ্টির দিন হলে তো কথাই নেই। জম্পেশ আড্ডা বা জানালার ধারে বসে একাকী বাদাম খেতে খেতে স্মৃতির অতলে ডুব দিতে কার না ভালো লাগে। মোটকথা, আমাদের দেশে ছেলেবুড়ো সবারই প্রিয় খাবার হচ্ছে চিনাবাদাম।

কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না, এটি শুধু আমাদের দেশে বা এ উপমহাদেশেই জনপ্রিয় নয়, বিশ্বজুড়েই মানুষের উপাদেয় খাবার। ইংরেজিতে চিনাবাদামকে বলা হয় 'পিনাট'। কারণ এটি অনেকটা 'পি' মানে মটরদানার মতো। ইংরেজিতে চিনাবাদামকে মাংকিনাটও বলে। এ খাবারের প্রতি বাঁদরদের বিশেষ দুর্বলতার কারণেই হয়তোবা মাংকিনাট নামের উৎপত্তি। পৃথিবীতে বাদামজাতীয় বেশির ভাগ খাবারই জন্মে মাটির ওপর। কিন্তু এদিক দিয়েও চিনাবাদাম ব্যতিক্রম। মাটির নিচে ফলে এগুলো। চিনাবাদামের লতানো গাছগুলোর ছোট ছোট ফুলের পরাগায়ণ হয় মৌমাছির মাধ্যমে। তারপর চিনাবাদামের জন্ম দিয়ে ফুলটি শুকিয়ে ঝরে যায়। প্রথম দিকে ছোট্ট একটি পিণ্ডের মতো থাকে চিনাবাদাম। পিণ্ডটি ক্রমশ মাটির ভেতর ঢুকে গিয়ে পূর্ণাঙ্গ বাদামে পরিণত হয়।

চিনাবাদাম প্রথম আবিষ্কৃত হয় দক্ষিণ আমেরিকায়। পেরুর লিমায় বহু প্রাচীন পাত্রে অঙ্কিত দেখা যায় এ গাছের ছবি। ধারণা করা হয়, ইনকা সভ্যতার সময় বেশ প্রচলন ছিল বাদাম খাওয়ার। কারণ ইনকাদের মৃৎশিল্পে চিনাবাদামের গড়নের মতো পাত্রও পাওয়া গেছে। চিনাবাদাম ইউরোপে আসে স্প্যানিশদের মাধ্যমে। পরে ইউরোপীয় ব্যবসায়ীরা আফ্রিকায় নিয়ে যায়। হাতির দাঁত আর মসলার বিনিময়ে আফ্রিকানদের বাদাম দিত তারা। শেষে আফ্রিকান ক্রীতদাসদের মাধ্যমে আফ্রিকা থেকে উত্তর আমেরিকায় চলে আসে বাদাম। যুক্তরাষ্ট্রে চিনাবাদাম খাওয়ার প্রচলন শুরু হয় তাদের গৃহযুদ্ধের আগে। তবে সে সময় গরু আর শূকরই ছিল বাদামের প্রধান খাদক। তারপর যুদ্ধের সময় যখন খাদ্য সংকট দেখা দেয়, তখন কিছু কিছু সৈন্য বিকল্প খাবার হিসেবে চিনাবাদামকে বেছে নেয়। এভাবে সৈনিকদের কাছে এটা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং যুদ্ধ শেষে ঘরে ফেরার সময় তারা সঙ্গে করে চিনাবাদাম নিয়ে যায়। এভাবে তাদের ঘরের পরিবারগুলোও আকৃষ্ট হয় চিনাবাদামের প্রতি। গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার কিছুদিন পর পিটি বারনাম নামে এক সার্কাস দলের মালিক সার্কাস চলাকালে বাদাম ভেজে বিক্রি শুরু করে। এরপর বাদাম ভাজা চলে আসে বেসবল স্টেডিয়াম। অনেক ফেরিওয়লাই তখন আয়ের নতুন উপায় হিসেবে বেছে নেয় বাদামকে। আর খেলার মাঠের দর্শকরাও চোখের সঙ্গে সঙ্গে চোয়াল দুটোকে সচল রাখার জন্য পেয়ে যায় মজার একটি জিনিস।

আমিন রহমান নবাব

Related Post



0 comments:

Post a Comment

Bangla Help

Sponsor