Posts Subscribe to This BlogComments

Follow Us

Saturday, November 27, 2010

কলস

কলস গাছের কথা আমরা অনেকে জানি। ঘটপত্রী এই গাছের পাতার শেষভাগে ঘটের মতো করা থাকে, এতে ঢাকনাও থাকে। কোনো পোকামাকড় সেই ঘটের মধ্যে ঢুকলেই ঘটের মুখ বন্ধ হয়ে যায়। আর পোকামাকড় তার মধ্যে পড়ে মারা যায়। এগুলোকে বলা হয় পতঙ্গভুক উদ্ভিদ। পৃথিবীতে অনেক পতঙ্গভুক উদ্ভিদ আছে। এমন ধরনের উদ্ভিদ আছে সেগুলোতে রাতে ফুল ফোটে। আর সেই ফুলের আকর্ষণে প্রজাপতি ও অন্যান্য কীটপতঙ্গ উড়ে এসে ফুলের ওপর বসে। কিন্তু সেসব হতভাগ্য কীটপতঙ্গরা জানে না, তারা মরণ ফাঁদে বসেছে। গাছের ফুলে এমন ধরনের ফাঁদ থাকে, যা থেকে সেসব পতঙ্গ আর উড়ে পালাতে পারে না। সেই ফুলের বুকে তাদের মৃত্যু ঘটে।
কলস উদ্ভিদ দেখতে অনেকটা কলসের মতো। তাই এর নাম কলস উদ্ভিদ। এই কলসের উপরের দিকে ফুলের মতো দেখতে লাল রঙের চমৎকার একটি অংশ থাকে। এই অংশে মধুর মতো রস নিংসৃত হয় যা পোকামাকড়কে আকৃষ্ট করে। মধুলোভী পোকামাকড় এই কলসের উপরে বসে মধু সংগ্রহ করতে গেলেই ঘটে যায় বিপত্তি। কারণ পিচ্ছিল কলসের উপর বসার কিছুক্ষনের মধ্যেই সে পা পিছলে কলসের মধ্যে পড়ে যায়। এরপর কলসের ভেতরের এক ধরনের রস এসে পোকাটিকে আটকে ফেলে। তারপর কলস উদ্ভিদ আরও কিছু রসের সাহায্যে পোকাটাকে হজম করে ফেলে। তবে সেরা মাংসখেকো উদ্ভিদ সম্ভবত ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ। আমেরিকার সাউথ ও নর্থ ক্যারোলিনায় এই উদ্ভিদগুলো ব্যাপকভাবে বিভিন্ন প্রকারে পাওয়া যায়। উদ্ভিদগুলো প্রায় এক ফিটের মতো লম্বা হয়। ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপের পাতাগুলো দেখতে অনেকটা মুখের চোয়ালের মতো। এই পাতাগুলো তিন থেকে ছয় ইঞ্চির মতো লম্বা হয় এবং এতে ছোট ছোট অনেকগুলো লোম থাকে।


পোকামাকড় যদি কখনো এই পাতার উপর বসে তাহলে এই পাতা মুহুর্তের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। কারণ ভেনাস ট্র্যাপের পাতা খুবই সংবেদনশীল। তাই আধ সেকেন্ডেরও কম সময়ের মধ্যে সে তার পাতা বন্ধ করে ফেলতে পারে। ঠিক এই সময় আবার পাতার লোমগুলোও পোকাকে বাইরে বের হতে বাধা দেয়। ফলে পাতার মাঝখানে পোকা আটকা পড়ে। এর পর আর কী, পাতা থেকে বিশেষ এক রস বের হয়ে পোকাকে হজম করতে শুরু করে। এভাবে একটা পোকা হজম করতে ভেনাস ট্র্যাপের ১০ দিনের মতো সময় লাগে। একটি পোকা হজম শেষ হলে ওই পাতাটা আবার খুলে যায় নতুন কোন পোকাকে ধরার আশায়। একটি পাতা তিন থেকে চারটি পোকা ধরতে পারে, তারপর তার কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়, নতুন পাতা শুরু করে শিকারের কাজ।


কিছু কিছু বিজ্ঞানী বিশ্বাস করেন, পরিবর্তিত পরিবেশে টিকে থাকতে গিয়ে বিবর্তনের মাধ্যমে এই সব উদ্ভিদ মাংসভূক হয়েছে। কিন্তু অনেকেই বিজ্ঞানীদের এই মতবাদ সম্পর্কে দ্বিমত পোষণ করেন।
এখন তো মানুষ শখ করে বাড়িতে টবে চাষ করছে মাংসখেকো বা মাংসভূক উদ্ভিদ।

Related Post



0 comments:

Post a Comment

Bangla Help

Sponsor