Posts Subscribe to This BlogComments

Follow Us

Tuesday, December 1, 2009

বাঁশ


বাঁশ যা ইংরেজীতে Bamboo নামে পরিচিত। কাষ্ঠল চিরহরিৎ উদ্ভিদ বাঁশ আসলে ঘাস পরিবারের সদস্য। ঘাস পরিবারের এরা বৃহত্তম সদস্য। বাঁশ গাছ সাধারণত একত্রে গুচ্ছ হিসেবে জন্মায়। এক একটি গুচ্ছে ১০-৭০/৮০ টি বাঁশ গাছ একত্রে দেখা যায়। এসব গুচ্ছকে বাঁশ ঝাড় বলে।

মুলিবাঁশের ফল
এর পাতা পান্ডা, হাতি, ও কিছু প্রজাতির ইদুরের খাদ্য।বাঁশের ফুল খেলে ইঁদুরের প্রজনন ক্ষমতা বাড়ে ।


বাঁশের পাতা

বাঁশের ফল
সেপ্টেম্বরের ১৮ তারিখ "বিশ্ব বাঁশ দিবস"  হিসেবে পালন করা হয়।
চীনে বাঁশ সমাদ্রিত তার স্থায়িত্বের কারণে। সেখানে এর সবচে বেশি ব্যবহার দেখা যায় ঘরের মেঝে তৈরির কাজে। বাঁশ  দিয়ে খালই, টুকরি, পলো, ধামা ইত্যাদি জিনিসপত্র তৈরী করা যায়। এছাড়াও বাঁশের আরো  গুণ আছে।
১. ফেব্রিকস: পরিবেশবান্ধব বস্ত্রশিল্পের বিপ্লব শুরুর পেছনে মুখ্য ভূমিকায় ছিল বাঁশ। এর উৎপাদন প্রক্রিয়া দ্রুত ও খরচ কম। সবচে বড় কথা হলো বাঁশের চাষে কোনো কীটনাশকের প্রয়োজন নেই। তাই এর ফেব্রিকস নিরাপদ। এর ফেব্রিকস অনেকটা সিল্কের মতোই। বাঁশ দিয়ে পোশাক, তোয়ালে থেকে ডায়াপারও তৈরি হচ্ছে এখন।

২. ত্বকের যত্নে: বিউটি কোম্পানিগুলোও এখন বাঁশের পেছনে লেগেছে। বাঁশের উচ্চমানের সিলিকা শ্যাম্পু ও ময়েশচারাইজার তৈরির একটি বড় উপাদান।


 
৩. বাঁশের বাইক:ক্যালিফোর্নিয়ার একজন ডিজাইনার সম্প্রতি তৈরি করেছেন বাঁশের ফ্রেমের তৈরি বাইক। সার্ফিংয়েও ব্যবহৃত হচ্ছে বাঁশের বোর্ড।

৪. প্লাগ-এন্ড-প্লে: প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আসুস ইতোমধ্যেই এনেছে বাঁশের তৈরি ল্যাপটপ কেস।

**********-----**********-_-_-_-_-_**************
প্রধানত রাঙ্গামাটির পাহাড়ি মানুষরা কচি বাঁশ দিয়ে নানা ধরনের তরকারি রান্না করে। এটি দু'ভাবে রান্না করা হয়- একভাগে পুঁইশাকের সাথে সিদ্ধ করে তরকারি, আর আরেকভাগে ভাজি।


 পুঁই শাকের সাথে কচি বাঁশের তরকারি

কচি বাঁশের ভাজি
শক্তসামর্থ বাঁশের খোলের ভেতর শূকরের মাংস বা  মাছ ভরে সেখানে তেল-মশলা দিয়ে বাঁশটিকে পুড়িয়ে বা ঝলসীয়ে আদিবাসিরা রান্না করে যা স্থাণীয় ভাষায় ক্যাবাং নামে পরিচিত।

ক্যাবাং- বাঁশের ভিতরে রান্না করা কাঁচকি মাছ
নিচে একটা বাশের একটি রেসিপি দেয়া হল।
বাঁশ কুড়োর দাবা কাবাব:
যা যা লাগবে

বাঁশ কুড়ো কুচি আধা কাপ (কচি বাঁশের নরম অংশ), পেঁয়াজ বেরেস্তা ১ টেবিল চামচ, কর্নফাওয়ার পরিমাণমতো, পুদিনাপাতা ১ কাপ কুচি করা, মুরগির কিমা ১ কাপ, আদা বাটা আধা চা চামচ, রসুন বাটা আধা চা চামচ, জিরা টেলে গুঁড়া ১ চা চামচ, মরিচ কুচি ৪টি, ধনেপাতা কুচি ২ টেবিল চামচ, কাজুবাদাম বাটা ১ চা চামচ, চিনি আধা চা চামচ, টেস্টিং সল্ট আধা চা চামচ, কিসমিস ২ টেবিল চামচ।
প্রস্তুত প্রণালী
প্রথম পর্যায়
বাঁশ কুড়ো কুচি আধা সেদ্ধ করে সব উপকরণ দিয়ে মেখে মিহি করে ব্লেন্ড করুন। এবার ধনেপাতা, পুদিনাপাতা, কিসমিস বেরেস্তা দিয়ে মেখে গোল করে বা কাটলেটের শেপে ভাজুন।
দ্বিতীয় পর্যায়
২ কাপ ময়দা, ২ টেবিল চামচ কর্নফাওয়ার, একটা ডিম ও সামান্য লবণ দিয়ে মাখুন। কিছু খামি নিয়ে লাল শাকের রস দিয়ে মাখুন। এবার সাদাখামি ও লাল খামি বেলে চিকন করে কেটে দাবার ডিজাইন করে কাবাবের উপর সেট করে আবার হালকা করে ভাজুন। সস দিয়ে পরিবেশন করুন।

নানা ধরনের বাশ পাওয়া যায়__ মুলি বাঁশ, তল্লা বাঁশ, হল্লা বাঁশ, বরাক বাঁশ, উলট বাঁশ, জিগজ্যাগ বাঁশ (চাইনিজ বাঁশ), আইক্কা(গিঁট)অলা বাঁশ, আইক্কাছাড়া বাঁশ, তুলা বাঁশ, খাড়া বাঁশ, নাড়া বাঁশ.......ইত্যাদি।

Related Post



0 comments:

Post a Comment

Bangla Help

Sponsor