Posts Subscribe to This BlogComments

Follow Us

Wednesday, December 30, 2009

প্যারোট ফুল

বিস্ময়কর এক জাতীয় ফুল দেখতে পাওয়া যায় থাইল্যান্ডে যার নাম Parrot ফুল। ফুলটি দেখতে হুবুহু Parrot পাখির মতো। বিরল প্রজাতির ফুলের গাছটির পরিচর্যা খুবই কঠিন। এটি বার্মা, ইষ্ট ইন্ডিয়া ও থাইল্যান্ডে ছাড়া অন্য কোথাও দেখা যায়না। তাছাড়া আবহাওয়া বা পরিবেশগত কারনে বিশ্বের অন্য কোথাও ফুল গাছটির ফলন হয় না। থাইল্যান্ডের the Royal Botanical Garden Kew -তে ফুলটির দেখা পাওয়া যায়। আসুন নিচের চিত্র থেকে দেখে নেয়া যাক Parrot ফুল।






গাছটি লম্বায় 6 feet (1.8) meters মত হয় আর পাতার সাইজ 6 cm। ফুল ফোটে অক্টবর-নভেম্বরের দিকে যা প্রায় 2 inches (5cm) আকারের
এর বৈজ্ঞানিক নাম Impatiens psittacina এটি parrot balsam বা flying cockatoo বা Flower Bird Parrot নামে পরিচিত আর Thai ভাষায় বলে Dork Nok Khaew।
Read More...

Saturday, December 26, 2009

কলমি

সোহাগ আহমেদ
কলমি শাক (Ipomoea aquatica বা water spinach) এক প্রকারের অর্ধ জলজ উষ্ণমণ্ডলীয় লতা। এর পাতা আমরা শাক হিসেবে গ্রহণ করি।
এই লতার আদিনিবাস সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায় না। তবে সারাবিশ্বের নিরক্ষীয় ও উপনিরক্ষীয় অঞ্চলে এটির ব্যাপক চাষ হয়। কলমি লতা স্বল্প পানিতে যেমন জন্মে, তেমনি আর্দ্র মাটিতেও এর ফলন ভালো হয়। এর ডাঁটা ২ থেকে ৩ মিটার লম্বা হয়। তবে শাকের পাতা অনেকটাই লম্বাটে ও ত্রিকোণাকার হয়ে থাকে। গাছ ৫-১৫ সে.মি. দীর্ঘ এবং ২-৮ সে.মি. চওড়া হয়। ফুল হয় অনেকটা কলসি আকারের এবং তা ৩-৫ সে.মি. ব্যাসের। ফুলের বর্ণ হয় সাদা। মালয়ী ও চীনা খাবারে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। বাংলাদেশেও এটি শাক হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়।  
Read More...

Friday, December 25, 2009

বিলিম্বি


বিলিম্বি ফলের সাথে বা এই নামের সাথে অনেকেই পরিচিতনয়।স্থানভেদে এ নামের ভিন্নতা আছে।যেমন- সিলেটে এটাকেবলা হয় ‘বেলেম্ব’এর গুণাগুণ ওউপকারিতা বহুমাত্রিক
বেলেম্বু গাছ দেখতে অনেকটা লেবুর গাছের মত।কামরাঙ্গা পরিবারেরএ গাছের পাতা, ফুল ও ফল দেখতে খুবই সুন্দর।গাছে নতুন পাতাগজালে সে পাতাকেও আবার ফুলের মত মনে হয়।গাছ প্রায় একই রকমতবে ফল আকারে লম্বা-২/৩ ইঞ্চি, রঙ সবুজ।দেখতে আঙুরের মত হলেও সুন্দর।এ ফলটি কাঁচাঅবস্থায় খুব টক হলেও রান্নার পর বা চাটনি কিংবা আচার তৈরি করার পর টক থাকেনা।পুষ্টিমানে আমিষ, শ্বেতসার, চর্বি, খনিজ, ভিটামিন, কারোটিন, ক্যালোরি সবইআছে।রক্তচাপ ও ডায়াবেটিকসের ঝুঁকি কমাবার প্রতিশ্র“তিও রয়েছেএতে।বীজথেকে এর বি¯-ার ঘটে।এপ্রিল থেকে নভেম্বরপর্যন্ত- এ গাছে প্রচুর ফল আসে।নিয়মিত পাতা ওডালপালা পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখলে সারা বছরই এ গাছ থেকে ফল পাওয়া যায়।শীতকালে বিলিম্বিগাছের পাতা ঝরে পড়ে তবে বসšে-র আগমণে আবার নতুন কুঁড়ি ও পাতা গজাতে থাকে।একটি পূর্ণ গাছেবছরে প্রায় ৩০০ কেজি বিলিম্বির ফলন হয়।
বিলিম্বি দেশের বিভিন্ন জেলায় পাওয়া যায় তবেকুমিল¬া, চট্টগ্রাম অঞ্চলে এর ফলন বেশি।ইদানিং সিলেটঅঞ্চলেও এর প্রচুর ফলন হয়।বিলিম্বি ছোট মাছ, বড় মাছের মাথা বা মাছের ডিম দিয়ে রান্না করেখেলে স্বাদ অনেকগুণ বেড়ে যায়।ডাল বা মাংশতেও বিলিম্বি ব্যবহার করা যায়।একটি বিলিম্বি গাছবাড়িতে থাকলে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে সারা বছরই পাড়া প্রতিবেশীদের মধ্যে বিলি করাযায়।অপ্রচলিত এ ফলটি এখন বাজারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়াযায়।বিক্রিও হয় বেশ চড়া দামে।পরিচিতি বৃদ্ধিরসঙ্গে সঙ্গে এর চাহিদাও বাড়ছে দিনে দিনে।
বীজ থেকে চারা উৎপাদনকরে তা রোপণ করলেই খুব স্বল্প সময়ে বড় হয়েথাকে।দো-আঁশ মাটিতে অবশ্য ভাল জন্মে।বছরের যেকোন সময়েবিলিম্বি চারা রোপণ করা যায় তবে বর্ষাকালেই রোপণ করা উত্তম।চারা রোপণের জন্য ১ী ১ ী ১ গর্ত করে কিছু পচা গোবর বা পচন সার মাটির সঙ্গে মিশিয়ে রোপণ করাভাল।
বাণিজ্যিকভাবে বিলিম্বি চাষ করতে হলে ৫ থেকে ৬ মিটার দূরদূর চারা রোপণ করতে হবে।ফ্রেব্র“য়ারি মার্চ মাসে গাছের চারদিকে রিং করে একবার সার প্রয়োগকরলেই ফলন অনেক বেড়ে যায়।একটি পূর্ণ গাছের চারদিকে আধা মিটার দূর রিং করে ১০ কেজিপচা গোবর তার সঙ্গে ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম এমপি ও ইউরিয়া এক সাথে মিশিয়ে প্রয়োগ করতেহয়।ফলখুব সাবধানে সংগ্রহ করতে হয়, কারণ ডালপালা খুবই নরম হয়ে থাকে।এ গাছের রোগবালাই বাপোকা মাকড়ের আক্রমণের সম্ভবনা নেই বললেই চলে।
-আফতাব চৌধুরী, সিলেট
Read More...

Monday, December 21, 2009

টালি পাম

টালি পাম গাছটি দেখতে তাল গাছের মতো। একে ইংরেজী নাম Arecaceae বা Palmae বৈজ্ঞানিক নাম কোরিফা টালিরিয়া রক্সব (Corypha taliera)। এ গাছের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি জীবনে একবারই ফুল-ফল দেয়। এ জন্য ৫০ বছরের কাছাকাছি সময় নেয়। ফুল থেকে হবে ফল। ফল থেকে বীজ। তারপর মারা যায় গাছটি।


ঢাকা ইউনিভার্সিটির ফুলার রোডে বৃটিশ কাউন্সিল ভবনের উল্টো দিকে ইউনিভার্সিটির প্রোভিসির বাসভবন। সেখানে রয়েছে নিঃসঙ্গ একটি টালি পাম বৃক্ষ, এ পৃথিবীতে যার কোনো সঙ্গী নেই। ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমানে টালি গাছটির বয়স ৫০ বছরের কাছাকাছি। সে হিসেবে কিছুদিনের মধ্যে গাছটি ফুলে ভরে উঠবে। আর তখনই বীজ সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা যাবে হারিয়ে যেতে বসা এ প্রজাতিটি। গাছটি জীবনে একবারই ফুল দেয় এবং এরপরই মারা যায়।

টিসু কালচারের মাধ্যমেও গাছটি বিলুপ্তির দুয়ার থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে ধারণা করা হতো। বাংলাদেশের উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণা করে এমন দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, এ প্রজাতিটির টিসু কালচার হয় না।
কোরিফা টালিরিয়া ভারত উপমহাদেশের স্থানীয় প্রজাতি। আগে শ্রীলংকা, সাউথ ইনডিয়াতে এ গাছটি দেখা যেতো। ১৯১৯ সালে বিখ্যাত বৃটিশ উদ্ভিদবিজ্ঞানী ডাবলিউ রক্সবার্গ এ প্রজাতিটি প্রথমবারের মতো বৈজ্ঞানিক উপায়ে তালিকাভুক্ত করেন।
এর আগ পর্যন্ত প্রজাতিটি উদ্ভিদবিজ্ঞানের জগতে অনাবিষ্কৃত ছিল। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এই টালি পাম বৃক্ষটিকে শনাক্ত করেন বিশ্বখ্যাত প্রয়াত উদ্ভিদবিদ, ঢাকা ইউনিভার্সিটির উদ্ভিদবিজ্ঞানের শিক্ষক প্রফেসর ড. আবদুস সালাম। গত শতাব্দীর ৫০ দশকে তিনি এ গাছটি প্রথম দেখতে পান।
কিন্তু গাছটি কোন প্রজাতির তা তিনি শনাক্ত করতে পারেননি। তবে এটি যে বিরল ও দুর্লভ প্রজাতির গাছ, তা তিনি বুঝতে পারেন এবং কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন গাছটি যেন না কেটে ফেলা হয়। মূলত তার একক প্রচেষ্টার ফলেই গাছটিকে প্রোভিসির বাসভবনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
কিছুদিন আগ পর্যন্ত এ প্রজাতিটির আরেকটি গাছ ছিল পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে। এ গাছের ফুল দেখতে খেজুরের ছড়ার মতো। সেখানে যখন ফুল ফোটে তখন গ্রামের মানুষ ধারণা করলো এটি ভূতপ্রেতের কাজ।
ড. শ্যামল কুমার বসু নামে বিখ্যাত এক পাম বিশেষজ্ঞ এ খবর শুনে প্রচ- কৌতূহল বোধ করেন এবং গাছটি দেখতে সেই গ্রামে যান।
তিনি অপার বিস্ময়ে লক্ষ করেন, গ্রামবাসী যাকে তাল গাছ বা খেজুর গাছ বলে ধারণা করছে সেটি আসলে একটি টালি পাম গাছ। ড. বসু এ গাছটি শনাক্ত করার আগ পর্যন্ত ধারণা করা হতো, প্রজাতিটি পৃথিবী থেকে চিরবিলীন হয়ে গেছে।
তিনি গ্রামবাসীকে প্রকৃত বিষয় খুলে বলে অনুরোধ জানান, যাতে গাছটিকে রৰা করা হয়। কিন্তু কিছুদিন পরেই গ্রামবাসী গ্রাম থেকে ‘ভূত তাড়ানোর উদ্দেশ্যে’ গাছটি কেটে ফেলে।
এ ঘটনা ১৯৭৯ সালের। এরপরই বিজ্ঞানীদের বদ্ধমূল ধারণা জন্মে, এ প্রজাতিটি হারিয়ে গেছে বিশ্ব থেকে। ২০০১ সালে সেই শ্যামল বসু বেড়াতে আসেন বাংলাদেশে এবং সৌভাগ্যক্রমে টালি পাম গাছটির সংস্পর্শে আসেন। তিনি জানালেন, এটিই এ প্রজাতিটির পৃথিবীর একমাত্র গাছ। এরপর এ দেশের উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করে জানতে পারেন তার কথা সর্বাংশে সঠিক। বর্তমানে গাছটিকে একটি কংকৃটের দেয়ালের মাধ্যমে ঘিরে রাখা হয়েছে। এটিকে রক্ষা করার জন্য চলছে ব্যাপক প্রচেষ্টা। রাখা হয়েছে একজন মালি, যিনি গাছটি দেখাশোনা করেন।
ইউনিভার্সিটির প্রোভিসি প্রফেসর আ ফ ম ইউসুফ হায়দার বলেন, তিনিও উন্মুখ হয়ে আছেন কখন গাছটি ফুল দেয়।
সূত্র: দৈনিক যায়যায়দিন, ১৮ এপ্রিল ২০০৭  
Read More...

Tuesday, December 15, 2009

শিমুল

শিমুল

অন্যান্য স্থানীয় নামঃ Silk Cotton Tree, Kapok Tree, Dumboil

বৈজ্ঞানিক নামঃ Bombax ceiba Family: Bombacaceae (baobab family)
অন্যান্য প্রজাতির মধ্যেঃ Salmalia malabarica
১।সোনালী শিমুল:

অন্যান্য স্থানীয় নামঃ Buttercup tree, Yellow slik cotton tree, Golden silk cotton tree

বৈজ্ঞানিক নামঃ Cochlospermum religiosum Family: Bixaceae (Annatto family)
২। শ্বেত শিমুলঃ

অন্যান্য স্থানীয় নামঃ Kapok, Ceiba, White Silk-Cotton Tree ,Safed semal ,Kutashalmali.

বৈজ্ঞানিক নামঃ Ceiba pentandra Family: Bombacaceae (baobab family)
Read More...

পলাশ


ইঙরেজী নামঃ Flame of the Forest

বৈজ্ঞানিক নামঃ Butea monosperma Family: Fabaceae (pea family)
অন্যান্য প্রজাতিঃ Butea frondosa, Erythrina monosperma, Plaso monosperma
আবার আরেক প্রকার পলাশ দেখতে পাওয়া যায়। এর নাম রুদ্রপলাশ।এটা আমাদের পরিচিত পলাশ ফুল নয়।

ইংরেজী নাম: African tulip tree, Fountaintree
• Hindi: Rugtoora

বৈজ্ঞানিক নামঃ Spathodea campanulata Family: Bignoniaceae (Jacaranda family)
Read More...

রক্তরাগ

রক্তরাগ এক প্রকারের ফুল গাছ লম্বায় 25" মত হয়।

অন্যান্য স্থানীয় নাম-
বাংলাঃ কামলা বুহাল (kamla buhal)
ইঙরেজী: Scarlet Cordia, Orange Geiger Tree, Sebesten plum, Geiger Tree, sea trumpet, Spanish cordia

বৈজ্ঞানিক নামঃ Cordia sebestena পরিবারঃ Boraginaceae (forget-me-not family)
বৈজ্ঞানিক শ্রেনীবিন্যাসঃ
Kingdom: Plantae
Division: Magnoliophyta
Class: Magnoliopsida
Order: Lamiales
Family: Boraginaceae
Genus: Cordia
Species: C. sebestena
Binomial name : Cordia sebestena L.
Read More...

লিচু

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নিরক্ষীয় ও ক্রান্তীয় অঞ্চলের উত্কৃষ্ট ফলসমূহের মধ্যে লিচু অন্যতম৷ চীনের দক্ষিণাঞ্চল বিশেষত কাওয়াং তুং ও ফুকিং প্রদেশ লিচুর উত্‌পত্তিস্থল৷ এখান থেকে ধীরে ধীরে পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন সময়ে লিচুর বিস্তার ঘটে৷ বর্তমানে লিচু উত্‌পাদনকারী দেশসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানের দক্ষিণাংশ, ফরমোজা, অষ্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ব্রাজিল, বার্মা, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ফ্লোরিডা, হাওয়াই, ভারত, বাংলাদেশ, প্রভৃতি৷ রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, পাবনা, চট্রগ্রাম, ঢাকা, ময়মনসিংহ প্রভৃতি এলাকায় লিচুর চাষ বেশি হচ্ছে৷ বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয় এবং মোট উত্‌পাদন প্রায় ১৩ হাজার টন৷ হেক্টর প্রতি ফলন ২.৫-২.৭ টন৷ লিচু টিন টিনজাত করে সংরক্ষণ করা যায়৷দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে লিচু চাষের প্রচুর সম্বাবনা রয়েছে এবং রপ্তানির সুযোগ রয়েছে৷

উদ্ভিদতত্ত্ব :
লিচু গাছ একটি চিরসবুজ, মজবুত, বহুবর্ষী, বহু শাখাযুক্ত, মাঝারি থেকে বড় আকারের বৃক্ষ৷
মূলতন্ত্র - প্রধান৷
বীজ থেকে উত্পাদিত গাছ ১২-১৫ মিটার লম্বা হয়৷
পাতা পক্ষল যৌগিক এবং প্রতিটি পাতায় ৫-৭ টি অনুপত্র থাকে৷
পুষ্পমঞ্জুরী - যৌগিক রেসিম৷
ফল রসালো ১-১.৫ ইঞ্চি ব্যাস (২.৫-৩.৫ সে.মি. চওড়া)বিশিষ্ট গোলাকার বা লম্বাকার৷ পাকা ফলের রঙ লালচে ৷

বীজের চারপাশে রসালো অর্ধস্বচ্ছ সাদাটে এরিল থাকে৷ এই এরিলই ভক্ষণযোগ্য অংশ৷
কলমের গাছে ৪/৫ বছরের মধ্যেই ফল ধরতে আরম্ভ করলেও ভাল ফলন পেতে ৭/৮ বছর লেগে যায়৷ প্রায় ২০-৩০ বছর পর্যন্ত ফলন ভাল পাওয়া যায়৷ বীজের গাছে ফুল আসা ৮/১০ বছর লাগে৷ ফেব্রুয়ারি মাসে লিচু গাছে ফল আসে এবং মে মাস থেকে ফল বাজারে পাওয়া যায়৷ এ সময় বোটার সঙ্গে কিছু পাতাসহ ছোট ডাল ভেঙে ফল সংগ্রহ করতে হয়৷ সাধারণত ২০/৩০ বছর বয়স পর্যন্ত লিচু গাছে ফলন বাড়তে থাকে৷ সাধারণত প্রতিটি গাছ থেকে বছরে ১৫০-২০০ কেজি বা ৪২০০-৭০০০ টি লিচু পাওয়া যায়৷ অবস্থাভেদে এর তারতম্যও লক্ষ করা যায়৷
গাছ থেকে লিচু সংগ্রহের পর লিচুকে সাধারণত ২-৩ দিনের বেশি ঘরে রাখা যায় না৷ কেননা, এতে লিচুর খোসা লাল ঔজ্জ্বল্য হারিয়ে বাদামি বর্ণ ধারণ করে এবং বাজারমূল্য কমে যায়৷ তবে ২.২-২.৩০ সে. তাপমাত্রায় ৮০-৮৪% আর্দ্রতায় লিচুকে একমাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়৷

লিচু পাড়ার পর পরই যদি তাকে দ্রুত ঠাণ্ডা করা হয় এবং ২.৫০ সে. তাপমাত্রায় রাখা হয় তবে তা ১ মাস পর্যন্ত ভাল থাকে৷
এ ছাড়া লিচুকে রোদে খুব ভালভাবে শুকিয়ে নিয়ে দীর্ঘদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়৷
অনেক দেশে লিচুর মোরব্বা তৈরি করে চিনির রসে সামান্য সাইট্রিক এসিড দিয়ে শাসগুলি ডুবিয়ে টিনের কৌটায় আবদ্ধ করা হয়৷
তাজা ফল রেফ্রিজারেটরে ৫-৭ দিন রেখে খাওয়া যায়৷
এর ইংরেজী নাম lychee, laichi বা lichu। আর দ্বীপদ নাম Litchi chinensis
বাংলাদেশে নিম্নলিখিত জাতের লিচু পাওয়া যায়



চায়না ৩

বোম্বাই লিচু
মোজাফ্ফরপুরী লিচু
মঙ্গলবারী লিচু
বারি লিচু ১
বারি লিচু ২

বারি লিচু ৩
বেদানা লিচু
এলাচ লিচু
Read More...

এলাচ


এলাচ ফুল
এলাচি এক প্রকার মসলা জাতীয় সুগন্ধি ভেষজ গাছ। এলাচ শুধু রান্নার স্বাদই বাড়ায় না৷ পানের স্বাদও বাড়ায়৷ তাছাড়া এলাচের অনেক ভেষজ গুণ রয়েছে৷ যা আমাদের শরীরে নানা সমস্যা দূর করে৷ চলুন এলাচ দু রকমের হয়৷ বড় এলাচ ও ছোট এলাচ৷ বড় আর ছোট দুই প্রকারের এলাচই শারীরিক নানা সমস্যা দূর করে৷ এলাচ খেলে কি লাভ হবে তা জেনে নিই৷
* চোখ জ্বালা: চোখ জ্বালা হলে এলাচের দানার সঙ্গে সম পরিমাণ চিনি মিশিয়ে পিষে ঐ গুড়োটা খান উপকার পাবেন৷
* প্রস্রাবে দোষ: যদি আপনর ঠিকমত প্রস্রাব না হয় তাহলে এলাচ গুড়োর সঙ্গে মধু মিশিয়ে খান সুফল পাবেন৷
* বমি কমায় : যদি অনরবত বমি হয় তাহলে এলাচের চোকলা পুড়িয়ে ঐ ছাইটা মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খান উপকার পাবেন৷
* কৌষ্ঠকাঠিন্য ও জ্বর কমায়: এলাচ, বেল, দুধ জলের মধ্যে মিশিয়ে ভাল করে গরম করুন৷ দুধটা গরম করতে করতে যখন অর্ধেক হয়ে যাবে৷ তখন গ্যাস বন্ধ করুন৷ ঐ দুধটা উপকার পাবেন৷ কৌষ্ঠকাঠিন্য কমবে৷ জ্বরও সেরে যাবে৷
এছাড়া এলাচ হিং এর সঙ্গে মিশিয়ে ওর মধ্যে সন্ধক নুন এর জল, এরেন্ডীর তেলের সঙ্গে মিশিয়ে যন্ত্রনার স্থানে লাগান৷ ব্যথা কমে যাবে৷




অন্যান্য স্থানীয় নাম-
বাংলা: এলাচি,
ইংরেজী: Cardamom, Malabar cardamom, Ceylon cardamom
বৈজ্ঞানিক নামঃ Elettaria cardamomum
পরিবারঃ Zingiberaceae (Ginger family)
বৈজ্ঞানিক শ্রেনী বিন্যাস এইভাবে -
Scientific classification
Kingdom: Plantae
(unranked): Angiosperms
(unranked): Monocots
(unranked): Commelinids
Order: Zingiberales
Family: Zingiberaceae
Genus: Elettaria Maton
Species: E. cardamomum
Binomial name :Elettaria cardamomum (L.) Maton
Read More...

হিজল

হিজল মাঝারি আকারের চিরহরিৎ গাছ। বাকল ঘনছাই রঙের ও পুরু। ডালপালার বিস্তার চারদিকে। উচ্চতা ১০ থেকে ১৫ মিটার। জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে এবং বাঁচে দীর্ঘদিন। বাংলাদেশের জলাবদ্ধ এলাকা খাল, বিল, নদী-নালা, হাওর, বাঁওড় ও ডোবার ধারে সর্বত্র হিজল গাছ চোখে পড়বে।
হিজলের কাঠ নরম, সাদা বর্ণের, উজ্জ্বল, মসৃণ ও টেকসই। পানিতে নষ্ট হয় না বলে নৌযান তৈরীতে ব্যবহৃত হয়। ।সস্তা আসবাব তৈরিতেও ব্যবহার করা হয়। জ্বালানি হিসেবেও এর ব্যবহার ব্যাপক। এর বাকল থেকে ট্যানিন পাওয়া যায়। এছাড়া উদ্ভিদটির মেডিসিনাল গুরুত্ব রয়েছে।
হিজল ফুল ফোটে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে। গোলাপি রঙের হিজল লম্বা পুষ্পদণ্ডের মধ্যে অসংখ্য ফুল ঝুলন্ত অবস্থায় ফোটে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুল ফোটা শুরু হয়। সকালের আলোয় ঝরে যায়। হিজলতলায় সকালে গেলে মনে হবে গোলাপি বিছানা পাতা। গ্রামে-গঞ্জে পানির ওপর পড়া হিজল ফুলের আস্তরণ চেনা রূপ। রাতে বা ভোরে হিজল তলার সামনে দিয়ে গেলে বা দূর থেকেও এর মাদকতাপূর্ণ মিষ্টি ঘ্রাণে মাতাল হতে হয়! হিজল ফুলের গন্ধে মাতাল কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাই লিখেছেন,
'পিছল পথে কুড়িয়ে পেলাম হিজল ফুলের মালা
কি করি এ মালা নিয়ে বল চিকন কালা···'

হিজল ফুল

পেন্ডুলামের মত ঝুলতে থাকা এই পুষ্প মন্জরীটি হিজল ফুল। বর্ষার প্রারম্ভে ফুটতে দেখা যায়।

পুকুর, নদী, দিঘী, জলাভুমি ইত্যাদির কিনারে হিজল গাছ জন্মাতে দেখা যায়। হিজল গাছ পানিতে মরে না। পুকুরের উপরিভাগে যখন এর ফুল ঝরে পড়ে তখন দেখতে সেটা অপূর্ব লাগে।

চিরসবুজ এই গাছটি মাঝারী আকৃতির হয়ে থাকে।
হিজল ফুল শেষ হলে গাছে ফল আসে। ফল তিতা ও বিষাক্ত, দেখতে অনেকটা হরীতকীর মতো। যা মারাত্মক বমনকারক।

হিজল ফল
বাংলা নাম: হীজল, নদীক্রান্ত, জলন্ত, কার্ম্মক এবং দীর্ঘপত্রক
অন্যান্য ভাষায় এর নাম:
• ইংরেজী নাম: Barringtonia, Freshwater Mangrove, Indian Oak, Indian Putat
• Assamese: Hendol, Hinyol, Pani amra
• Bengali: Hijal
• Hindi: Hijagal, Hijjal, समुन्द्र फल, Samundarphal
• Kannada: Mavinkubia, Niruganigily, Dhatripala
• Malayalam: Attampu, Attupelu, Nir perzha
• Marathi: Tiwar, Newar, Sathaphala, Samudraphala
• Oriya: Nijhira
• Sanskrit: Abdhiphala, Ambudhiphala, अम्बुज Ambuja, নিচুল
• Tamil: Aram, Kadambu, Kadappai, ஸமுத்திரப்பழம samudra pazham
• Telugu: Kurpa
• Urdu: Samandarphal
বৈজ্ঞানিক নাম: Barringtonia acutangula
গোত্র: Lecythidaceae
বৈজ্ঞানিক বিভাজন
Kingdom: Plantae
Division: Magnoliophyta
Class: Magnoliopsida
Order: Ericales
Family: Lecythidaceae
Genus: Barringtonia
Species: B. acutangula
Read More...

রক্ত কাঞ্চন



রক্ত কাঞ্চন এক প্রকারের বৃক্ষ। এর ফুল গোলাপী, হালকা বেগুনী বা লাল ও কিছু কিছু সাদা রঙের হয়।

অন্যান্য স্থানীয় নামঃ
ইংরেজীঃ Orchid Tree, Kachnar, Mountain-ebony,
Hindi:कचनार,
sanskrit :कोविदार

বৈজ্ঞানিক নামঃ Bauhinia variegata পরিবারঃ Caesalpiniaceae (Gulmohar family)
বৈজ্ঞানিক শ্রেনীবিন্যাসঃ
Kingdom: Plantae
Division: Magnoliophyta
Class: Magnoliopsida
Subclass: Rosidae
(unranked): Eurosids I
Order: Fabales
Family: Fabaceae
Subfamily: Caesalpinioideae
Tribe: Cercideae
Genus: Bauhinia
Species: B. variegata
Binomial name : Bauhinia variegata L.



Read More...

নিল

লিখেছেন : রাজামশাই

পুরাকালে মিশর, গ্রীস ও রোমের লোকেরাও নীলের কথা জানতো। মিশরের ১৮তম রাজবংশের মমিগুলি নীলরং এর কাগজে মোড়া থাকতো।

বাংলা ভূখন্ডে ইন্ডিগোফেরা এর ১৫ প্রজাতির গাছ জন্মে। তার মধ্যে indigofera tinctoria নীল রং এর চাষ করা হতো ভারতে। নীর পানিদে দ্রব্য গুকোসাইড নামক রাসায়নিক হিসাবে থাকে।
এর বাংলা নামঃ নীল
অন্যান্য স্থানীয় নামঃ নিলিনী, রঞ্জনী, গ্রামিনিয়া, কালোকেশী, নীলপুষ্প, মধুপত্রিকা।
বৈজ্ঞানিক নামঃ indigofera tinctoria পরিবারঃ Fabaceae
বৈজ্ঞানিক বিভাজনঃ
Kingdom: Plantae
Division: Magnoliophyta
Class: Magnoliopsida
Order: Fabales
Family: Fabaceae
Subfamily: Faboideae
Tribe: Indigofereae
Genus: Indigofera
Species: I. tinctoria
Binomial name: Indigofera tinctoria L.
নীল রং তৈরীর পদ্ধতি নিম্নরূপ - গাছ কেটে বড় কড়াইতে পানির মধ্যে প্রায় ১২ ঘন্টা ডুবিয়ে রাখলে তা থেকে সবুজ রং এর নির্যাস রের হয়। এরপর এই নির্যাস নতুন পাত্রে ঢেলে এই দ্রবনকে কাঠি দিয়ে অনেক্ষন নাড়তে হয় যাতে নী বাতাসের অক্সিজেন এর সংস্পর্শে আসে। এর ফলে অদ্রাব্য নীল এর তলানী নীচে জমা হয় এবং পড়ে তা পৃথক করে শুকিয়ে টুকরো টুকরো করে কাটা হয়। ইন্ডিগোটিন ছাড়া তাতে অন্যান্য পদার্থ থাকে তার মধ্যে ইন্ডিরুবাইনম ইন্ডিগো গ্রীন ও ইন্ডিগো ব্রাউন।

এই গাছের ভেষজগুনও বিদ্যমান। প্রাচীন ভারতে অয়ুর্বেদ শাস্ত্রে নীলে আছে প্রশস্তি। আধুনিক কবিরাজি চিকিৎসায় নীলে শিকড় ও পাতার নানা অসুখে ব্যবহৃত হয়। পাতার রস মৃগীরোগীর জন্য উপকারী।

এই উপমহাদেশের মাটি নীল চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী হওয়ায় বৃটিশ নীল করেরা বিপুল পুঁজি বিনিয়োগ করে নীলচাষে। নদীয়া, যশোর, বগুড়া, রংপুর প্রভৃতি জেলায় নীলচাষ ব্যাপক ভাবে করা হতো। উনিশ শতকের শেষের দিকে নীলচাষ অর্থনৈতিক ভাবে লাভজনক না হওয়ায় কৃষকরা ধান ও পাট চাষের দিকে ঝুকে পড়ে। বৃটিশ নীলকরেরা অত্যাচার আর নিপীরনের মাধম্যে নীলচাষে বাধ্য করলে ১৮৫৯-৬০ সালে নীলচাষীরা এর বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তুলে। এর পরে বাংলায় নীল চাষ ক্রমে বিলুপ্ত হয়।
Read More...

Monday, December 14, 2009

থাইম

আয়ুর্বেদ মতে থাইম (Thyme) ভাল এন্টিবায়েটিক, এস্ট্রিনজেন্ট। এসিডিটি রোধে এর ভূমিকা চমৎকার। জলপাই, সরিষা আর ভিনেগারের সাথে এটি ব্যবহার করা যায়। তবে এটি তাজা ব্যবহার করতে পারলে এর থেকে অধিকতর ভাল ফল পাওয়া যায়।

Read More...

আদা

মসলা জাতিয় ফসলের মধ্যে আদা (Ginger) অন্যতম। আদা (Zingiber officinale) খাদ্যশিল্পে, পানীয় তৈরীতে, আচার, ঔষধ ও সুগন্ধি তৈরীতে ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও মুখের রুচি বাড়াতে ও বদহজম রোধে আদাশুকিয়ে চিবিয়ে খাওয়া হয়। এছাড়াও সর্দি, কাশি, আমাশয়, জন্ডিস, পেট ফাঁপায় আদা চিবিয়ে বা রস করে খাওয়া হয়।অন্যান্য ফসলের চেয়ে আদা চাষ করা লাভজনক।আদার প্রধান উপকারিতা এই যে, এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আদা চা ক্লান্তি দূর করে। এটি শরীরে উষ্ণতা বাড়ায়। ফলে যাদের পিত্ত সমস্যা আছে তাদের এটি কম খাওয়া উচিত।

বাংলাদেশের টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী, পঞ্চগড় ও পার্বত্য জেলাগুলোতে ব্যাপকভাবে আদা চাষ হয়ে থাকে।আদা বীজ রোপণের প্রায় ৭-৮ মাস পর ফসল পরিপক্ক হয়। আদা এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে মে মাস পর্যন্ত রোপণ করা হয়। সাধারণত ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে আদা উত্তোলন করা হয়। আদায় আমিষ ২·৩%, শ্বেতসার ১২·৩% , আঁশ ২·৪% , খনিজ পদার্থ, ১·২% পানি ৮০·৮% ইত্যাদি উপাদান বিদ্যমান।
Read More...

লজ্জাবতী গাছ

বেশির ভাগ মানুষের কাছে লজ্জাবতীগাছ কাঁটাওয়ালা আগাছা হিসেবে পরিচিত। কবিরাজ ছাড়া আর কারো কাছে তার কোনো দাম নেই। যেখানে সেখানে জন্মে চাষিদের বড্ড ঝামেলায় ফেলে। সাফ করতে খুব কষ্ট হয়। আর একবার কোথাও জন্মালে সহজে মরতে চায় না। অথচ এই লজ্জাবতী গাছকেই কাজে লাগিয়ে এখন জৈব সার তৈরি করা হচ্ছে। এই জৈব সার ফসলের জমিতে ব্যবহার করে ভালো ফসলও পাওয়া যাচ্ছে। বিদেশে ভুট্টা ও বাজরার জমিতে এই জৈব সার ব্যবহার করে ভালো ফলন পাওয়া গেছে অনেক আগেই। সম্প্রতি আমাদের দেশেও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর লজ্জাবতীর জৈব সার তৈরি ও ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে তা চাষিদের মধ্যে সম্প্রসারণের চেষ্টা চালাচ্ছে।
তবে বলে রাখি, যে লজ্জাবতীগাছ থেকে জৈবসার তৈরি করা হয় সেটি কিন্তু মোটেই আমাদের দেশীয় লজ্জাবতীর গাছ নয়, থাই লজ্জাবতী। দেশীয় লজ্জাবতীগাছ কাঁটাওয়ালা, ছোট, কাণ্ড তুলনামূলকভাবে শক্ত, বৃদ্ধি কম। তাই এই গাছ দিয়ে জৈব সার তৈরি করা বেশ ঝামেলার এবং বায়োমাস কম বলে কম জৈব পদার্থ পাওয়া যায়। পক্ষান্তরে বিদেশী তথা থাই লজ্জাবতী গাছে কোনো কাঁটা নেই বলে নাড়াচাড়া করতে খুব সুবিধে। এসব গাছ তাই আমাদের দেশে কাঁটাবিহীন লজ্জাবতী নামে পরিচিত। এই লজ্জাবতীগাছ দ্রুত বাড়ে, গাছ প্রায় ৩ থেকে ১০ ফুট লম্বা হয়। এ জন্য প্রচুর বায়োমাস পাওয়া যায়। গাছ নরম ও রসালো বলে দ্রুত পচে যায়। এ কারণে লজ্জাবতীগাছ থেকে অল্প সময়ের মধ্যেই বেশি জৈব সার পাওয়া যায়। এই জৈবসারে গাছের পুষ্টিও কম থাকে না।
এর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সামান্য স্পর্শেই এর পাতা গুটিয়ে যায়। লজ্জাবতী লতার নামের পেছনে এর আচরণগত বৈশিষ্ট্যই প্রধান কারণ। সাধারণত পথের পাশের ঝোপঝাড়েই এরা বেশি জন্মে। লজ্জাবতী লতার বোটানিকাল নাম হলো mimosa pudica। এদের পাতার গঠন যৌগিক। পাতাগুলি বৃনত্দের সাথে যেখানে সংযুক্ত থাকে, সে অংশটি অনেকখানি স্ফীত। স্ফীত অংশটিতে পাতলা আবরণের অসংখ্য কোষ থাকে। পানি পেলে কোষগুলো তা শোষণ করে এবং স্ফীত হয়। পানি বেরিয়ে গেলে আবার সংকুচিত হয়ে পড়ে। আমরা অনেক সময় খেলাচ্ছলেই লজ্জাবতী লতার পাতা স্পর্শ করি এবং স্পর্শকাতরতার জন্যই নিজেদের এরা গুটিয়ে নেয়। আসলে তখন পাতলা আবরনের কোষ থেকে জলকণা কান্ডে চলে যায়। কোষগুলো সংকুচিত হয় এবং তারা তাদের দৃঢ়তা বা stiffness হারিয়ে ফেলে। এর ফলে পাতাগুলি কুঞ্চিত হয়। শুধু মানুষের স্পর্শেই যে পাতাগুলো কুঞ্চিত হয়, ব্যপারটা তেমন নয়। পোকা, ৰুদ্রবসত্দু, এমনকি পাতার এক ফোঁটা পানিও ওই প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। গুটিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া কয়েক সেকেন্ডে সমাপ্ত হয়। কিন্তু স্বাভাবিক বা আগের অবস্থায় ফিরে আসতে তাদের আধঘন্টা থেকে একঘন্টা পর্যনত্দ সময় লাগে। মানুষের কাছে লজ্জাবতী লতা তার আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্যের জন্য খুব ভালভাবেই পরিচিত। একই বৈশিষ্ট্যে সম্পন্ন আরও কিছু উদ্ভিদ আছে। তবে তাদের পাতা কুঞ্চিত হতে অপেৰাকৃত বেশি সময় লাগে।
Read More...

তুলসী

আমাদের এই উপমহাদেশে যারা আয়ুর্বেদ শাস্ত্র চর্চা করেন তাদের কাছে তুলসীর গুণাগুণকে নতুন করে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই। তুলসীর সিদ্ধ পানি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আর তুলসী কেবল শরীরকে নয় বরং শরীরের সাথে এটি বাতাসকেও দূষণমুক্ত করে।
তুলসী পাতার অনেক গুণ রযেছে৷ আয়ুর্বেদে তুলসীকে ভেষজের আখ্যা দেওয়া হয়৷ চলুন এই ভেষজের গুণগুলো জেনে নিই৷
* জ্বর হলে জলের মধ্যে তুলসী পাতা, গোল মরিচ এবং মিশ্রী মিশিয়ে ভাল করে সেদ্ধ করুন৷ অথবা তিনটে দ্রব্য মিশিয়ে বড়ি তৈরি করুন৷ দিনের মধ্যে তিন-চার বার ঐ বড়িটা জলের সঙ্গে খান৷ জ্বর খুব তাড়াতাড়ি সেরে যাবে৷
* কাশি যদি না কমে সেই ক্ষেত্রে তুলসী পাতা এবং আদা পিষে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খান৷... এতে উপকার পাবেন৷
* পেট খারাপ হলে তুলসীর 10 টা পাতা সামান্য জিরের সঙ্গে পিষে 3-4 বার খান৷ পায়খানা একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে৷
* মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে দিনে 4-5 বার তুলসী পাতা চেবান৷
* ঘা যদি দ্রুত কমাতে চান তাহলে তুলসী পাতা এবং ফিটকিরি একসঙ্গে পিষে ঘা এর স্থানে লাগান কমে যাবে৷
* শরীরের কোন অংশ যদি পুড়ে যায় তাহলে তুলসীর রস এবং নারকেলের তেল ফেটিয়ে লাগান এতে জ্বালা কমবে৷ পোড়া জায়গাটা তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে৷ সেখানে কোন দাগ থাকবে না৷
* ত্বকের চমক বাড়ানোর জন্য এছাড়া ত্বকের বলীরেখা এবং ব্রোনো দূর করার জন্য তুলসী পাতা পিষে মুখে লাগান৷
* বুদ্ধি এবং স্মরণ শক্তি বাড়ানোর জন্য প্রতিদিন 5-7 টা তুলসী পাতা চিবান৷
* প্রস্রাবে জ্বালা হলে তুলসী পাতার রস 250 গ্রাম দুধ এবং 150 গ্রাম জলের মধ্যে মিশিয়ে পান করুন৷ উপকার পাবেন৷
* ত্বকের সমস্যা দূর করতে তিল তেলের মধ্যে তুলসী পাতা ফেলে হালকা গরম করে ত্বকে লাগান৷
তবে আপনি কি জানেন ভেষজ ওষুধ তুলসী আর পুদিনা ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে৷ কিছুদিন আগে গবেষকরা তাদের রিসার্চে এই তথ্যটাই আবিষ্কার করলেন৷
রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের 10 জন ছাত্র তুলসী আর পুদিনার চারাগাছ নিয়ে গবেষণা করেন৷ তাঁরা ইঁদুরের উপর পরীক্ষা চালান৷ প্রথমে তারা ইঁদুর গুলোকে দুটো ভাগে ভাগ করে একটা অংশের শরীরের ক্ষতের উপর রাসায়নিক প্রলেপ লাগান৷ আর একটা অংশের উপর তুলসী আর পুদিনার নির্যাস থেকে তৈরী প্রলেপ লাগান৷ এক মাস পরে দেখা যায় যে সব ইঁদুরের উপর তুলসী আর পুদিনার প্রলেপ লাগানো হয় নি তাদের শরীরে আরও অনেক গভীর ক্ষত তৈরী হয়৷
আর যাদের শরীরে তুলসী আর পুদিনার প্রলেপ লাগানো হয়েছিল 11 মাস বাদে তাদের শরীরে ঐ ক্ষত তৈরী হয়৷ এতেই প্রমাণিত হয় যে সব ইঁদুরের শরীরে তুলসী আর পুদিনার প্রলেপ লাগানো হয়েছিল তাদের ক্যান্সার প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে গেছে৷ ত্বকের উপর পরীক্ষা নিরীক্ষা চালানোর পর ইঁদুরের ফুসফুস আর ইনটেনস্টাইন নিয়ে গবেষণা চালান তারা৷ সবেতেই ধরা পড়ে তুলসী আর পুদিনার ক্যান্সার প্রতিরোধের ক্ষমতা রয়েছে৷ ক্যান্সার নিরাময় করা যায় না এই ধারনায় একেবারেই ভ্রান্ত৷ আয়ুর্বেদও ক্যান্সার নিরাময়ে সহায়ক হয়েছে৷

Read More...

রোজমেরি

Rosemary (Rosmarinus officinalis) এক ধরনের কাঠ জাতীয় চির সবুজ বৃক্ষ। যা লম্বায় ৫ফিট মত আর পাতাসহ ৬ফিট ৭ইঞ্চি মত হয়। এর সবুজ পাতাগুলোর দৈর্ঘ্য 2–4 cm (0.8–1.6 in) আর প্রস্থ 2–5 mm হয়।
রোজমেরির পাতা প্রধানত মাইগ্রেন, টেনশন প্রভৃতি রোগে প্রতিবেষধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া রুটির খামির ক্রিম, সস, স্যুপে এর ব্যবহার লক্ষ্যণীয়। এছাড়া সিম, আলু কিংবা টমেটো সসেও এটি মন্দ নয়।

Read More...

মেথি

মেথি (Fenugreek) প্রচলিত সস, স্ট্যু এবং পুরের জন্য এটা ব্যবহার করা হয়। বদহজম, এসিডেটির জন্যও এটি চমৎকার। কেবল স্বাদের পরিবর্তনের জন্য নয় বরং স্বাস্থ্যের জন্য এটি অত্যন্ত ফলদায়ক।

মেথি ( Trigonella foenum-graecum) -এটি মৌসুমী গাছ,একবার মাত্র ফুল ও ফল হয়। । তিনটি করে পাতা একসাথে জন্মায় । ফুলে ও তিনটা করে পাপড়ি থাকে। স্ত্রী এবং পুরুষ দুই ধরণের ফুল হয়। রঙ সাধারণত সাদা ও হলুদ হয়ে থাকে। বাদামি-হলুদ বর্ণের প্রায় চারকোনা আকৃতির বীজ হয়।

এর পাতা শাক হিসাবে খাওয়া হয়। মেথি শাক গ্রাম বাংলার মানুষের প্রিয় খাদ্য। ইউনানী, কবিরাজী ও লোকজ চিকিৎসায় বহুবিধ ব্যবহার হয়। মশলা হিসাবেও এটি প্রচুর ব্যবহার হয়।। এটি পাঁচ ফোড়নের একটি উপাদান। মেথি থেকে ষ্টেরয়েডের উপাদান তৈরী হয়।
Read More...

পার্সলে


পার্সলের (Parsley) পাতা আর শিকড় দুটোই উপকারী। বিভিন্ন রান্নায় একে ব্যবহার করা হয়। ইউরিনাল ইনফেকশনের জন্য তো এটি খুবই উপকারী।

Read More...

সুগন্ধাবচ

সুগন্ধাবচ আদা পরিবারের গুল্ম জাতীয় এক ধরনের সুগন্ধি উদ্ভিদ। এটির শিকড় রান্নায় ব্যবহৃত হয়।

বৈজ্ঞানিক নামঃ Alpinia galanga
Read More...

অরেগানো



অরেগানো (Oregano) এন্টিসেপটিক, এন্টি এক্সিড্যান্ট। প্রধানত টমেটো, সস, রসুন, লেবু, পিজ্জা এবং জলপাই তেলের সাথে অরেগানো ব্যবহার করা হয়।
Read More...

তেজপাতা

তেজঁপাতা এক ধরনের সুগন্ধি ভেষজ উদ্ভিদ।যার পাতা মসলা হিসাবে রান্নায় ব্যবহার করা হয়।


বৈজ্ঞানিক নামঃ Cinnamomum tamala
ইংরেজী নামঃMalabathrum, Malobathrum, Malabar leaf, Bay Leaf, Indian Cassia Ligea
তেজপাতা মাঝারি ধরণের একটি চিরশ্যামল (Evergreen)বৃক্ষ। এটি ১৫/১৬ মিটার পর্যন্ত উচু হয়। বাংলাদেশের পাহাড়ী এলাকায় তেজপাতা ভাল জন্মে। বিশেষ করে সিলেট জেলার জৈন্তাপুর ও হরিপুর এলাকায় তেজপাতা গাছ প্রাকৃতিকভাবেই জন্মে বা বংশ বিস্তার করে। বাংলাদেশের সব জেলাতেই বর্তমানে তেজপাতা গাছের চাষ হয়ে থাকে। এটি জলাবদ্ধতা মোটেই সহ্য করতে পারেনা। এ কারণে উচু জমিতে যেখানে জলাবদ্ধা হয়না এমন জায়গায় তেজপাতা গাছ লাগানো উচিত। চারা রোপণের ৩/৪ বছরের মধ্যেই গাছ থেকে পরিপক্ক পাতা সংগ্রহ করা যায়। তেজপাতা গাছ বসতবাড়ির শোভাও বৃদ্ধি করে। তেজপাতার প্রধান রাসায়নিক উপাদান হচ্ছে ফেলড্রিন (Phellandrin), ইউজিনল (Eugenol)ও সিননামিক এলডিহাইড(Cinnamic aldihyde)। তেজপাতা একটি সুগন্ধ বিশিষ্ট মসলা হিসেবেই আমাদের কাছে পরিচিত। কিন্তু তেজপাতার অনেক ঔষধি গুন রয়েছে। যেমন :-

০১। তেজপাতা গাছের ছাল ও পাতা বেটে রস খেলে অজীর্ণ এবঙ পেটের পীড়া ভাল হয়ে যায়।
০২। তেজপাতার রস কোলষ্টেরল কমাতে সাহায্য করে। এর রস হৃদযন্ত্রের পেশীগুলোর কার্যক্ষমতা বাড়ায়।
০৩। ঠান্ডাজনিত বা উচ্চভাষণজনিত স্বরভংঙ্গ তেজপাতা থেতো করে ৩/৪ কাপ পানিতে সেদ্ধ করে বার বার একটু একটু করে খেলে স্বরভংগ চলে যাবে।
০৪। তেজপাতা চন্দনের মত করে বেটে গায়ে মাখালে গায়ে দুর্গন্ধ হওয়া বন্ধ হয়ে যায়।
০৫। বেশী ঘাম হলে তেজপাতা বাটা গায়ে মেখে ১ ঘন্টা পর গোসল করে ফেললে অত্যধিক ঘাম হওয়া কমে যাব।
০৬। গায়ে ফোড়া উঠলে তেজপাতা বাটার প্রলেপ দিলে ফোড়ার যন্ত্রণা চলে যাবে।
০৭। তেজপাতা চুর্ণ দিয়ে দাত মাজলে মাড়ির ক্ষত সেরে যাবে।
০৮। তেজপাতা সেদ্ধ পানিতে কুলি করলে অরুচি চলে যাবে।
Read More...

পুদিনা

পুদিনা এক প্রকারের গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। এর পাতা সুগন্ধি হিসাবে রান্নায় ব্যবহার করা হয়।

অন্যান্য স্থানীয় নামঃ Mint, nana।
এর বৈজ্ঞানিক নামঃ Mentha spicata । এটি Lamiaceae পরিবারের অন্তর্গত।
পুদিনা পাতা নানা ধরনের হয়। আয়ুর্বেদ মতে পুদিনা পরিপাকে সহায়তা করে। পুদিনার চা গরমের সময় শীতল অনুভূতি এনে দেয় দেহের প্রতিটি কোষে।
Read More...

কারি পাতা

কারী গাছের পাতাকে কারিপাতা বলে যা  সুগন্ধি তৈরীতে ও খাবার বাসনাময় করতে ব্যবহৃত হয়।

এটি বারসুঙ্গা নামেও পরিচিত।
অন্যান্য স্থানীয় নামঃ Curry Tree, Curry Plant, Curry Leaf, Kari patta

বৈজ্ঞানিক নামঃ Murraya koenigii.
Read More...

Bangla Help

Follow by Email

Sponsor